পুজোয় পাহাড়ে পর্যটকদের বড় উপহার! ভিড় সামলাতে বাড়ছে দার্জিলিংয়ের জয় রাইড ও টয়ট্রেন

পুজোয় পাহাড়ে পর্যটকদের বড় উপহার! ভিড় সামলাতে বাড়ছে দার্জিলিংয়ের জয় রাইড ও টয়ট্রেন

শারদোৎসবে পাহাড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে প্রস্তুত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। পর্যটনের ব্যস্ত মরশুমে ভ্রমণপিপাসুদের চাহিদা মেটাতে একগুচ্ছ নতুন রাইড ও বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে বড়দিন ও নতুন বছর—টানা প্রায় তিন মাস পাহাড়ে পর্যটনের ব্যস্ত সময়। আর এই সময়ে দার্জিলিংয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শতাব্দীপ্রাচীন টয়ট্রেনের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। বাড়তি যাত্রীদের চাপ সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি অতিরিক্ত জয় রাইড এবং চার্টার্ড টয়ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ।

বর্ষার পরপরই পাহাড়ি রেলপথে ধস বা যান্ত্রিক গোলযোগের ঝুঁকি থাকে। তাই পুজো শুরুর আগেই রেললাইন, সিগন্যাল ব্যবস্থা, ইঞ্জিন এবং কামরাগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জোরকদমে চলছে। DHR-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, ব্যস্ত মরশুমে যাত্রী পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ: শুধু সাময়িক ভিড় সামলানোই নয়, টয়ট্রেন পরিষেবাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও উন্নত করতে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলমন্ত্রক:

  • কার্শিয়াংয়ে হেরিটেজ ট্রেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: কর্মীদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মান বাড়াতে কার্শিয়াংয়ে একটি বিশ্বমানের হেরিটেজ রেল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • এনজিপি (NJP)-তে পৃথক ভবন: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে ডিএইচআরের জন্য একটি বড় পৃথক ভবন তৈরি করা হচ্ছে, যেখান থেকে পর্যটকেরা এক ছাদের তলায় প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও পরিষেবা পাবেন।
  • ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিকীকরণ: অন্যান্য স্টেশনগুলির পরিকাঠামো উন্নত করা হলেও টয়ট্রেনের ঐতিহাসিক ও হেরিটেজ স্বকীয়তা যাতে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে হেরিটেজ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে আগামী পুজোর মরশুমে পর্যটকদের এক সেরা অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পুরোপুরি তৈরি দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *