দলত্যাগী ২০ সাংসদের পদ খারিজের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্জিতে সুপ্রিম নোটিস কাকলি-সুদীপদের
নয়াদিল্লি: ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙন! তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার প্রথম শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, দেব, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে নোটিস জারি করে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের অবস্থান ও বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে লোকসভা স্পিকার ও লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের অবস্থানও জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত।
তবে এদিন সুপ্রিম কোর্ট পৃথকভাবে স্পিকার বা সেক্রেটারি জেনারেলকে নতুন করে নোটিস পাঠায়নি। কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তিনি স্পিকারের পক্ষ থেকেই সওয়াল করছেন এবং বিদ্রোহী সাংসদদের ইতিমধ্যে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “বিষয়টি কেবল নোটিস জারির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।”
কেন সুপ্রিম কোর্টে গেল তৃণমূল? ২০২৬ বিধানসভা ভোটের পরেই তৃণমূলের টিকিটে জেতা ২০ জন লোকসভা সাংসদ দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন এবং NCPI-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা জানান। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করে, তারা আইন মেনেই NCPI-এর সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ (Merger) হয়েছে এবং সংসদে আলাদা দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। বর্তমানে তারা সংসদে আলাদা বসার পাশাপাশি NDA-র সংসদীয় কার্যকলাপেও অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, দলীয় সদস্যপদ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়া সংবিধানের দশম তফসিল (Anti-Defection Law / দলত্যাগ বিরোধী আইন) অনুযায়ী অপরাধ। তৃণমূলের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলত্যাগী সাংসদদের খারিজের বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে বারবার চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। ১২ আগস্ট স্পিকারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করা হলেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি— দলত্যাগ সংক্রান্ত মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশিকা মেনেই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দ্রুত এই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ করতে হবে।
মামলায় নাম থাকা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ: কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী (দেব), সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায়, শর্মিলা সরকার ও ইউসুফ পাঠান প্রমুখ।