১৫০ টাকার কার্ডে চড়া দামে রক্ত বিক্রি! ব্লাড ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারিতে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের

নিজস্ব প্রতিনিধি: ব্লাড ব্যাঙ্কের আড়ালে চলছে রক্তের কালোবাজারি! পাড়ার রক্তদান শিবির থেকে সামান্য ১৫০ টাকায় রক্তদানের কার্ড কিনে, সেই কার্ড ভাঙিয়ে বিনামূল্যে তোলা রক্ত রোগীদের কাছে বিকোচ্ছে চড়া দামে। সম্প্রতি রক্ত নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি কাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছেন রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা।
ঘটনার সূত্রপাত পাঁশকুড়া থেকে। সেখানে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগে সম্প্রতি এক দালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করতেই একে একে বেরিয়ে আসে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর নানা রূপ। তদন্তে জানা যায়, এই কালোবাজারির পেছনে জড়িয়ে রয়েছে ব্লাড ব্যাঙ্কের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের এক বিরাট অংশ। ইতিমধ্যেই এই আঁতাঁতের অভিযোগে পাঁশকুড়া থেকে ৩ জন সহকারী পরীক্ষককে (ল্যাব টেকনিশিয়ান) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কীভাবে চলত এই কারবার? তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ক্লাব বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করলেই ওত পেতে থাকা দালালেরা সেখানে পৌঁছে যেত। আয়োজকদের থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বিনিময়ে রক্তদানের কার্ডগুলি তারা কিনে নিত। এরপর ল্যাব টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আঁতাঁত করে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে বিনামূল্যে তুলে নেওয়া হতো রক্তের পাউচ। পরবর্তীতে মুমূর্ষু রোগীর পরিবার রক্তের জন্য হাহাকার করলে, সুযোগ বুঝে তাঁদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো সেই রক্ত।
পুলিশ জানিয়েছে, রক্ত বেচে অর্জিত অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিত এই চক্রটি। প্রাথমিক তদন্তেই প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ লেনদেনের হদিস মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই দুর্নীতির জাল আরও বহুদূর বিস্তৃত। এর পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা রাজ্যস্তরের সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা বিভিন্ন পাড়ার ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও এখন রাজ্য পুলিশের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।