‘ক্ষমতা থাকলে হাঁটার প্রতিযোগিতায় নামুন!’ মমতার বয়স নিয়ে শুভেন্দুর কটাক্ষে পাল্টা চ্যালেঞ্জ কুণালের

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল। সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাবে নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “বাড়ি থেকে আর বেরোতে হবে না, উনি ফেসবুকেই থাকুন। যাতে বেরোতে না পারেন সেই ব্যবস্থাই করব।” পাশাপাশি মমতার উদ্দেশে তাঁর সংযোজন ছিল, “বয়স হয়েছে, এবার বিশ্রাম নিন।”
শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। নবান্নের সেই ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “সরকারি অফিসে বসে আমাকে প্রকাশ্যেই নির্লজ্জভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির কাছে আমার প্রশ্ন, সংবিধান কি আমাদের এই ভারতের স্বপ্নই দেখিয়েছিল?”
এই ঘটনার জল গড়ায় আরও বহুদূর। শুভেন্দু অধিকারীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মাঠে নামেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুভেন্দুর বক্তব্যকে ‘কুরুচিকর’ ও ‘রাজনৈতিক সৌজন্যহীনতা’ বলে তোপ দাগেন তিনি। কুণাল বলেন, “কোনও মহিলার বয়স নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত কুরুচিকর মানসিকতার পরিচয়। আগেকার দিনে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব (Institutional Delivery) ছিল না, ফলে কাগজে-কলমে যে বয়স লেখা থাকে, বাস্তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক বয়স ও কর্মক্ষমতা তার চেয়ে অনেক কম।”
বিরোধী দলনেতাকে সরাসরি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু বাবুর যদি এতই সাহস থাকে, তবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাঁটা ও ব্যায়ামের প্রতিযোগিতায় নামুন। মুখ্যমন্ত্রী দিন, সময় ও স্থান ঠিক করুন—সারা বিশ্ব এবং মিডিয়া লাইভ দেখুক কে কতটা ফিট! বয়স নিয়ে ছোট করার চেষ্টা না করে নিজে পারফর্ম করে প্রমাণ দিন।”
কুণাল আরও স্পষ্ট জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরেই গৃহবন্দি করার মতো মানসিকতা দেখানো হচ্ছে। তবে তৃণমূল নেত্রীকে এভাবে রোখা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা বাংলা ও ভারতজুড়ে ঘুরবেন, ক্ষমতা থাকলে রুখে দেখাক বিরোধী দল।”