নার্সদের ড্রেস কোড ঘিরে চরম বিতর্ক! বর্ধমানকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তোপ ও নির্দেশিকা

নার্সদের ড্রেস কোড ঘিরে চরম বিতর্ক! বর্ধমানকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তোপ ও নির্দেশিকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: নার্সদের পোশাকে কোনো নতুন পরিবর্তন নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী ড্রেস কোডেই আবার ফিরে এল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। সোমবার নার্সিং শাখার জারি করা এক নির্দেশিকায় নার্সদের জন্য ‘স্মল ক্যাপ’ পরা ফের বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশিকাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নার্সিং মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং তীব্র বিতর্ক।

সূত্রের খবর, গত শুক্রবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে টুপি না পরার কারণে এক প্রবীণ নার্সকে প্রকাশ্যেই ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেই ঘটনার ঠিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্যভবন থেকে এই নির্দেশিকা জারি হওয়ায় বিষয়টিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীর সময় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবং বারবার টুপি ধোয়ার জটিলতার কারণে কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই হাসপাতালগুলিতে এই ক্যাপ ব্যবহারের চল কার্যত উঠে গিয়েছিল। কোথাও সার্জিক্যাল ক্যাপ, আবার কোথাও পুরোপুরি টুপি ছাড়া কাজ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। অতিমারী কেটে গেলেও স্বাস্থ্য দপ্তরের উদাসীনতায় পুরোনো পোশাকের এই নিয়ম আর ফিরে আসেনি, ফলে হাসপাতালভেদে ড্রেস কোডে অনিয়ম দেখা যাচ্ছিল।

সোমবারের নতুন নির্দেশিকায় গ্রেড-২ স্টাফ নার্স (মহিলা), সিস্টার টিউটর থেকে শুরু করে জয়েন্ট নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট— প্রত্যেকেই সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সাথে কী ধরনের ‘স্মল ক্যাপ’, জুতো, শীতের পোশাক ও অলংকার ব্যবহার করবেন, তার স্পষ্ট গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের মূল কারণ: নার্সদের একাংশের মতে, এটি কোনো নতুন নিয়ম চাপানো নয়, বরং কোভিডের সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পোশাকের স্রেফ ‘প্র প্রত্যাবর্তন’। লিখিত নির্দেশের ফলে এতদিন ধরে চলা অস্পষ্টতার অবসান ঘটল।

তবে বিপরীত সুরও শোনা যাচ্ছে। নার্সদের সংগঠন ‘নার্সেস ইউনিটি’-র সাধারণ সম্পাদক ভাস্বতী মুখোপাধ্যায় এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, বর্ধমানের ঘটনায় নার্সরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ। তার ওপর সরকারি হাসপাতালে যেখানে নার্সরা এতদিন ‘ট্রায়াঙ্গুলার ক্যাপ’-এ অভ্যস্ত ছিলেন, সেখানে হঠাৎ কেন বেসরকারি হাসপাতালের মতো ‘স্মল ক্যাপ’ চাপিয়ে দেওয়া হলো? সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নার্সদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

যদিও অভিযোগ উড়িয়ে স্বাস্থ্যকর্তাদের দাবি, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবরের সরকারি আদেশনামাতেও (মেমো নম্বর: HNG/6M-5-2013/1279) স্পষ্টভাবে ‘স্মল ক্যাপ’-এর উল্লেখই ছিল। ফলে এতে কোনো নতুন নিয়ম চাপানো হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *