পাটনায় ছাত্র আন্দোলনে ধুন্ধুমার! জোটের পরোয়া না করে রাজপথে সোজা চিরাগ পাসওয়ান

পাটনা: ৭০তম বিপিএসসি (BPSC) পরীক্ষা বাতিল এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের দাবিতে পাটনার রাজপথ এখন উত্তপ্ত। আর এই আন্দোলন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে জোর চর্চা। কেন্দ্রে শাসক এনডিএ (NDA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি ও জেডিইউ-এর অবস্থানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও রণক্ষেত্র পাটনা: গত মঙ্গলবার ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা পাটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও রাজভবন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে এগোলে পুলিশ তাঁদের পথ আটকায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান প্রয়োগ করে। পুলিশের এই দমনপীড়নের মধ্যেও পিছু হটেননি ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।
ঘটনাস্থলে চিরাগ, সোজা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে: লাঠিচার্জের খবর পেয়েই চুপ করে থাকেননি চিরাগ পাসওয়ান। তিনি সোজা পাটনার গারদানি বাগে বিক্ষোভরত ছাত্রদের মাঝে পৌঁছে যান এবং তাঁদের ১৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এর পরপরই তিনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর (বিজেপি) সঙ্গে দেখা করে ছাত্রদের সমস্যা তুলে ধরেন।
সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় চিরাগ জানান, “ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। এনডিএ জোটের একজন দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে তরুণদের ন্যায্য দাবি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ছাত্রদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শাসক দলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া: এদিকে শাসকদল বিজেপি এবং জেডিইউ এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে। বিজেপির অভিযোগ, তেজস্বী যাদব এবং রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ছাত্রদের উসকানি দিচ্ছেন। অন্যদিকে জেডিইউ মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন জানান, টিআরই-৪ (TRE-4) পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে ৩২ হাজারের বেশি শূন্যপদ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে সরকার।
ছাত্রদের মূল দাবি কী? আন্দোলনকারী বিপিএসসি ও টিআরই-৪ পরীক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো—৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, শিক্ষক নিয়োগে পিটি-মেইনস পদ্ধতি বজায় রাখা এবং পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং প্রথা প্রত্যাহার করা। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে বিহার সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয় কি না।