ফোনে মগ্ন জিম ট্রেনার, মুম্বইয়ে বেপরোয়া গাড়ির পিষে মারল ৮ বছরের শিশুকে

ফোনে মগ্ন জিম ট্রেনার, মুম্বইয়ে বেপরোয়া গাড়ির পিষে মারল ৮ বছরের শিশুকে

গাড়ি চালানোর সময় নজর ছিল মোবাইল ফোনে। রাস্তায় যে একটি ৮ বছরের শিশু চলে এসেছে, তা খেয়ালই করেননি চালক। ফলস্বরূপ বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা গাড়ির প্রবল ধাক্কায় প্রাণ হারাল রমীন্দ্র গুপ্ত (৮) নামের এক শিশু। রবিবার মুম্বইয়ের জিজামাতা গার্ডেনের নিকটবর্তী এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালক মেঘনা রাওয়ালকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে মুম্বইয়ের বান্দ্রা থানার পুলিশ। পেশায় জিম ট্রেনার মেঘনার বিরুদ্ধে একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে।

সংক্ষেপে মূল ঘটনা:

  • মর্মান্তিক পরিণতি: জিজামাতা গার্ডেনের কাছে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৮ বছরের রমীন্দ্রের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
  • ফোনে মগ্ন চালক: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ি চালানোর সময় টানা ফোনে কথা বলছিলেন অভিযুক্ত জিম ট্রেনার মেঘনা রাওয়াল।
  • টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ: ধাক্কা মারার পরেও গাড়ি থামাননি তরুণী; শিশুটিকে কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় বেপরোয়া গাড়িটি।
  • আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার পরেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS) এবং ‘মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট’-এর একাধিক ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মুম্বইয়ের জিজামাতা গার্ডেনের পাশ দিয়ে নিজের গাড়ি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মেঘনা। সেই সময় শিশু রমীন্দ্র রাস্তা পার হতে গেলে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তরুণী চালক তখন ফোনে ব্যস্ত থাকায় গাড়িটির সামনে শিশু চলে আসা সত্ত্বেও তা লক্ষ্য করেননি এবং সজোরে ধাক্কা মারেন।

ঘটনাচক্রে ধাক্কা লাগার পর গাড়িটি না থেমে শিশুটিকে কিছুটা পথ হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়ে যায়। উপস্থিত স্থানীয়েরা তৎক্ষণাৎ ছুটে এসে গাড়িটি থামিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি: খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বান্দ্রা থানার পুলিশ এবং অভিযুক্ত মেঘনা রাওয়ালকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ (অপরাধমূলক নরহত্যা), ২৮আই (বেপরোয়া গাড়ি চালানো) ও ১২৫ (অন্যের জীবন বিপন্ন করা) ধারা এবং মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের ১৮৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি ঠিক কত ছিল এবং চালক মদ্যপ ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুম্বই শহরে একাধিক পথ দুর্ঘটনার খবর উঠে এসেছে। এর কিছুদিন আগেই নালাসোপারায় এক ১৬ বছরের নাবালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় ২ জনের প্রাণ যায়। লাগাতার এহেন দুর্ঘটনায় শহরের ট্র্যাফিক ও পথ নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *