‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লোভ! গোপন বিয়ে ফাঁস হতেই জেলহাজতে বাবা সহ ৩

‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লোভ! গোপন বিয়ে ফাঁস হতেই জেলহাজতে বাবা সহ ৩

কলকাতা: নাবালিকা মেয়ের বিয়ের খবর গোপন রেখেও শেষ রক্ষা হলো না! রাজ্য সরকারের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা আদায় করতে গিয়ে উল্টে পুলিশের হাতকড়া পরতে হলো বাবাকেই। নাবালিকা বিবাহ এবং পকসো (POCSO) আইনে গৃহবধূর স্বামী ও শাশুড়ির পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মেয়েটির বাবাকেও। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হরিদেবপুর থানা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালির বাসিন্দা ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল হরিদেবপুরের এক তরুণের। প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের অজান্তেই ওই যুবকের হাত ধরে ঘর ছাড়ে সে। হরিদেবপুরে গিয়ে তারা বিয়েও করে। পুত্রবধূ নাবালিকা জানা সত্ত্বেও সানন্দে তাকে বরণ করে নেন শাশুড়ি এবং শুরু হয় নতুন সংসার।

ঘটনার মোড় ঘোরে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ‘কন্যারত্ন’ প্রকল্পের টাকা মেয়েটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর। খবর পেয়েই মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফোন করেন বাবা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন— মেয়ে কোথায় থাকবে না থাকবে তাতে তাঁর যায়-আসে না, কিন্তু সরকারি প্রকল্পের টাকা প্রতি মাসে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে। বাবাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও কিশোরী বাপের বাড়ি ফিরতে বা টাকা তুলতে অস্বীকার করে।

এরপরই টাকা আদায়ের ছক কষে বাবা একটি সামাজিক সংস্থার (NGO) দ্বারস্থ হন এবং জানান যে তাঁর নাবালিকা মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছে। এনজিও-র সহায়তায় হরিদেবপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্তে নেমে পকসো আইন, অপহরণ ও নাবালিকা বিবাহের অভিযোগে পুলিশ প্রথমেই স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে।

তবে তদন্ত এগোতেই সামনে আসে আসল সত্য। পুলিশ জানতে পারে, মেয়ে উধাও হওয়ার পর বাবা নোদাখালি থানায় কোনও নিখোঁজ ডায়েরি করেননি। উপরন্তু, মেয়ের বিয়ের কথা জেনেও তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানাননি। শুধুমাত্র সরকারি টাকা আদায়ের স্বার্থেই তিনি পুলিশকে ব্যবহার করেছিলেন। অপরাধ গোপন রাখা এবং পরোক্ষভাবে নাবালিকা বিবাহে সায় দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ শেষ পর্যন্ত নাবালিকার বাবাকেও গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই কিশোরীকে সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *