‘জীবনে তো একবারই আসা…’ হড়পা বান ও বাসের চরম বিশৃঙ্খলা পেরিয়েও পিছু হঠল না আরামবাগের পর্যটক দল

নেপালের সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও হড়পা বানের আতঙ্ক টলাতে পারেনি হুগলির আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটকের মনোবল। নেপাল জুড়ে ফের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা জারি হওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত ভ্রমণসূচি শেষ না করে দেশে ফিরতে রাজি হননি তাঁরা। অবশেষে পুরো নেপাল সফর শেষ করেই আরামবাগে ফিরেছেন ওই পর্যটকরা।
গত ২৪ আগস্ট আরামবাগ থেকে মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকসহ ৬৫ জনের এই দলটি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের ভোটেকোশী নদীতে আচমকা মারাত্মক হড়পা বান আসে। কৈলাস মানস সরোবরগামী বহু পর্যটক সেই মুহূর্তে সীমান্ত এলাকায় ইমিগ্রেশনের কাজে ব্যস্ত থাকায় এই বিপর্যয়ে ভেসে যান। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ এবং বহু দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকলেও আরামবাগের পর্যটক দলটি পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিল। খবর পাওয়ার পরপরই অনেক পর্যটক কাঠমান্ডুতে ফিরে এসে নিরাপদে দেশে ফেরার পথ ধরলেও, আরামবাগের দলটি ভ্রমণ বাতিল করতে একেবারেই নারাজ ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির পর বাস মালিকের পক্ষ থেকে চালককে দ্রুত বাস নিয়ে আরামবাগে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হলেও পর্যটকরা তা মানেননি।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় পর্যটকদের বলতে শোনা যায়, “জীবনে একবারই নেপালে এসেছি, প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে। থাকা-খাওয়ায় যখন কোনো সমস্যা নেই, তখন ভ্রমণ শেষ না করে কেন ফিরব?”
অন্যদিকে, নেপাল থেকে ফেরার পর পর্যটকদের একাংশ বাসের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, খারাপ বাসে করে নিয়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে বাস বিকল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে ঘোরার নির্ধারিত কয়েকটি জায়গায় তাঁরা যেতে পারেননি।
তবে বাসের মালিক চন্দ্রকান্ত দত্ত এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, বাসের নামে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া এজেন্টের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।