“বিদেশে ঘুরতে যাবেন না, সোনাও কিনবেন না!”— GDP বৃদ্ধির মাঝেই দেশবাসীকে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক বার্তা

“বিদেশে ঘুরতে যাবেন না, সোনাও কিনবেন না!”— GDP বৃদ্ধির মাঝেই দেশবাসীকে মোদীর মাস্টারস্ট্রোক বার্তা

চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির সাফল্য উদ্‌যাপনের মাঝেই দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে কিরঘিজস্তানের বিশকেকে অবস্থানরত মোদী এই বার্তার মাধ্যমে ‘স্বদেশি’ পণ্য গ্রহণ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার ওপর নতুন করে জোর দিয়েছেন।

কেন বিদেশ ভ্রমণ, সোনা কেনা ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে? প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের অহেতুক বিদেশে ছুটি কাটাতে যাওয়া, বিদেশের মাটিতে বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠান (ডেস্টিনেশন ওয়েডিং) আয়োজন করা এবং প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • অর্থনীতির সুরক্ষা: বিদেশে ভ্রমণ বা বিয়ের আয়োজন করলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মুদ্রা বাইরে চলে যায়। তার বদলে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ঘুরলে বা দেশে বিয়ের আয়োজন করলে সেই অর্থ স্থানীয় হোটেল, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছবে।
  • বাণিজ্য ঘাটতি রোধ: ভারতে সোনার সিংহভাগই আমদানি করতে হয়, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে এবং বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া সোনা না কেনার অর্থনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।

অর্থনীতির চমৎকার সাফল্য ও বিরোধীদের জবাব ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে, যা আগের বছরের ৬.৯ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে পরিষেবা ক্ষেত্রে ১০% এবং শিল্প ক্ষেত্রে ৮.৬% বৃদ্ধি এই সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এই অর্জনকে “অত্যন্ত কঠিন সাফল্য” বলে ব্যাখ্যা করেছেন মোদী।

একই সাথে বিরোধীদের পরোক্ষ কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দেশের কিছু মানুষ হতাশা থেকে ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ ছড়াচ্ছে, কিন্তু ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত শক্তি ও সঠিক নীতির শক্তিতেই ভারত আজ এই গতিতে এগিয়ে চলেছে।

উপসংহার মোদীর এই বার্তার মূল কথা হলো—শুধু সরকারি নীতি নয়, আমজনতার প্রতিদিনের খরচের সিদ্ধান্তই পারে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে। স্বদেশি পণ্য ব্যবহার, দেশীয় পর্যটন এবং “ওয়েড ইন ইন্ডিয়া” ভাবনার মাধ্যমেই স্বাধীনতার ১০০ বছরে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *