ডেঙ্গির কোপে রাজ্যে মৃত ৭: “তথ্য গোাপন নয়, লড়াই করেই রোখা যাবে রোগ”, কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার আতঙ্ক। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে জ্বর। এর মাঝেই রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তথ্য না লুকিয়ে সরাসরি রোগ প্রতিরোধের লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোগ লুকিয়ে সমাধান নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ডেঙ্গি বা কোনো রোগ চেপে রাখলে তা দূর করা সম্ভব নয়। সঠিক পরিসংখ্যানই রোগের তীব্রতা ও ছড়ানোর ধরন বুঝতে সাহায্য করে। তাঁর বক্তব্য, “পাড়ার কোনো সাধারণ মানুষও যদি ডেঙ্গির আশঙ্কার কথা জানান, তবে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সেখানে যেতে হবে। রোগকে অস্বীকার না করে মোকাবিলা করলেই তবেই সুফল মিলবে।” ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যভবনে একটি জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আহমেদ।
কোন জেলায় কতটা থাবা? স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসেই রাজ্যে নতুন করে প্রায় ১,০০০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৬ অগাস্টের পরিসংখ্যান বলছে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩,০০০। দক্ষিণবঙ্গের পাঁচটি জেলায় সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি—
- মুর্শিদাবাদ: প্রায় ৬০০ জন
- উত্তর ২৪ পরগনা: প্রায় ৩৫০ জন
- কলকাতা: প্রায় ৩৫০ জন
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রায় ৩০০ জন
- হাওড়া: প্রায় ৩০০ জন
ম্যালেরিয়ার দাপট ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুধু ডেঙ্গিই নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপটও। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫,৫০২ জন, যার মধ্যে ১,০৬২ জন মারাত্মক ‘প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিফেরাম’ জাতীয় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। আসন্ন উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য জুড়ে সচেতনতা ও প্রশাসনিক নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।