শুধু দ্রুত তৈরি খাবার নয়, এক যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির পেটের খিদে মেটানোর আবিষ্কার: নুডলসের জন্মকথা

শুধু দ্রুত তৈরি খাবার নয়, এক যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির পেটের খিদে মেটানোর আবিষ্কার: নুডলসের জন্মকথা

রাত দুটোয় চটজলদি খিদে মেটাতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই ২ মিনিটের ইনস্ট্যান্ট নুডলসের পেছনে রয়েছে এক গভীর ও আবেগঘন ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পর, ১৯৪৫-৪৬ সালে জাপানে খাদ্যাভাব চরম আকার ধারণ করে। তীব্র ঠান্ডায় এক বাটি গরম রামনের (Ramen) জন্য রাস্তায় মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখে ব্যথিত হন মোমোফুকু আন্দো নামের এক তাইওয়ান বংশোদ্ভূত জাজল ব্যবসায়ী। তিনি উপলব্ধি করেন—শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে মানুষের পেট ভরাতে হবে।

এই ভাবনা থেকেই ৪৮ বছর বয়সে নিজের বাড়ির পেছনের এক ছোট্ট শেডে শুরু করেন নিরলস গবেষণা। টানা এক বছরের প্রচেষ্টায় ১৯৫৮ সালে তিনি আবিষ্কার করেন এক বিশেষ কৌশল: নুডলসকে সেদ্ধ করার পর তেলে ভেজে শুষ্ক করে ফেলা, যা পরে শুধু গরম জল দিলেই আবার খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। এভাবেই জন্ম নেয় বিশ্বের প্রথম ইনস্ট্যান্ট নুডলস—’চিকিন রামেন’। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি উদ্ভাবন করেন ‘কাপ নুডলস’।

২০০৭ সালে ৯৬ বছর বয়সে আন্দো পরলোকগমন করলেও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘নিসিন ফুডস’ (Nissin Foods) আজও কোটি কোটি মানুষের খিদে মিটিয়ে চলেছে। এটি কেবল একটি সহজলভ্য খাবার নয়, বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এক দূরদর্শী মানুষের ভালোবাসা ও অধ্যাবসায়ের প্রতীক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *