সাইকেল দিয়েই বাজিমাত! বিদ্যুৎ ছাড়া ওয়াশিং মেশিন বানিয়ে জাতীয় সম্মান কেরলের ১৪ বছরের রেম্যার

জীবনের কঠিন পরিস্থিতি আর দৈনন্দিন সমস্যার সামনে মাথা নত না করে, নিজের বুদ্ধিতেই পথ খুঁজে নিয়েছে কেরলের এক ১৪ বছরের কিশোরী। মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিদিন পরিবারের জামাকাপড় কাচার ঝক্কি সামলাতে গিয়ে এক অভিনব সমাধান আবিষ্কার করে ফেলেছে সে। সাধারণ এক পুরনো সাইকেলকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়াই চালিত একটি ওয়াশিং মেশিন বানিয়ে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে রেম্যা জোসে নামের এই কিশোরী।
কেরলের মালাপ্পুরম জেলার কিঝাট্টুর গ্রামের বাসিন্দা রেম্যার পরিবার তখন এক চরম কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। মা অসুস্থ, আর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত। তার ওপর স্কুলে যাতায়াতেই দিনে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় চলে যেত। ফলে সংসারের সমস্ত জামাকাপড় কাচার দায়িত্ব এসে পড়েছিল রেম্যা ও তার যমজ বোনের ওপর। হাতে করে জামাকাপড় কাচতে গিয়ে পড়াশোনার মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছিল।
ঠিক এই জায়গা থেকেই সমস্যার সমাধান খোঁজা শুরু রেম্যার। বৈদ্যুতিক ওয়াশিং মেশিনে ঘূর্ণায়মান ড্রামের কাজ করার পদ্ধতিটি সে আগে লক্ষ্য করেছিল। রেম্যা ভাবে, বিদ্যুতের বদলে যদি মানুষের শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে সেই ড্রাম ঘোরানো যায়, তবে কেমন হয়?
যেমন ভাবা, তেমনি কাজ! একটি পুরনো সাইকেলের প্যাডেল ও চেনের মেকানিজমকে ওয়াশিং ড্রামের সঙ্গে যুক্ত করে একটি নকশা তৈরি করে সে। তারপর স্থানীয় এক অটোমোবাইল ওয়ার্কশপের সাহায্যে মাত্র ২,০০০ টাকা খরচে বানিয়ে ফেলে বিদ্যুৎহীন ওয়াশিং মেশিন। এই মেশিনে সাইকেলের মতো প্যাডেল করলেই যান্ত্রিক শক্তিতে ভিতরের ড্রাম ঘোরে, যার ফলে জামাকাপড় পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি জলও সহজে ঝরে যায়।
রেম্যার এই অভিনব আবিষ্কার শুধু পড়াশোনার সময়ই বাঁচায়নি, একই সঙ্গে শারীরিক ব্যায়ামের সুযোগও করে দিয়েছে। পরবর্তীতে ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (NIF) রেম্যার এই উদ্ভাবনকে ‘Washing Cum Exercise Machine’ হিসেবে জাতীয় স্বীকৃতি দেয়।
কোনো বড় ল্যাবরেটরি বা দামি যন্ত্রপাতি ছিল না, ছিল কেবল পর্যবেক্ষণ শক্তি ও সমস্যা সমাধানের অদম্য মানসিকতা। ১৪ বছর বয়সী রেম্যার এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল—প্রয়োজনই আসলে নতুন নতুন আবিষ্কারের আসল অনুপ্রেরণা।