বছরের পর বছর বোতলবন্দী থাকলেও কেন নষ্ট হয় না গঙ্গাজল?

বছরের পর বছর বোতলবন্দী থাকলেও কেন নষ্ট হয় না গঙ্গাজল?

ধর্মীয় বিশ্বাস ও সনাতন সংস্কৃতির অঙ্গ গঙ্গাজল যুগ যুগ ধরে পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। মুঘল সম্রাট আকবর আগ্রা বা ফতেহপুর সিক্রিতে থাকাকালীন সিল করা পাত্রে গঙ্গাজল আনিয়ে পান করতেন এবং একে ‘অমরত্বের জল’ বলতেন। উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ব্যাকটেরিওলজিস্ট আর্নেস্ট হানবুড়ি হানকিন প্রথম এর জীবাণুনাশক ক্ষমতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পান। তিনি লক্ষ্য করেন, সাধারণ জলে কলেরার মারাত্মক জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করলেও গঙ্গার জলে তা মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

পরবর্তীকালে ফরাসি বিজ্ঞানী ফেলিক্স ডেল ডেরেল আবিষ্কার করেন যে, গঙ্গাজলে উপস্থিত প্রায় এক হাজার প্রজাতির ‘ব্যাকটেরিওফেজ’ নামক বিশেষ ভাইরাস মানুষকে ক্ষতি না করে কেবল ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ভক্ষণ করে মেরে ফেলে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অন্যান্য নদীর তুলনায় গঙ্গাজলের স্বয়ংক্রিয় বিশুদ্ধকরণ ক্ষমতা প্রায় কুড়ি গুণ বেশি। হিমালয়ের ভেষজ উদ্ভিদ ও খনিজ উপাদানের সংস্পর্শে আসায় এই নদীর জল বছরের পর বছর ধরে বোতলবন্দী থাকলেও সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও বিশুদ্ধ থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *