বাবার জাতই কি একমাত্র মাপকাঠি? মায়ের পরিচয়েও মিলবে সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক রায় আদালতের

বাবার জাতই কি একমাত্র মাপকাঠি? মায়ের পরিচয়েও মিলবে সংরক্ষণ, ঐতিহাসিক রায় আদালতের

চেন্নাই: সন্তানের জাত নির্ধারণে কেবল বাবার পরিচয়ই শেষ কথা নয়, মায়ের জাত ও সন্তান কোন সামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুদুচেরি সরকারের একটি পুরনো নীতিকে খারিজ করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, মায়ের জাতের ভিত্তিতেও সন্তান শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণের সুবিধা দাবি করতে পারবে। শুধুমাত্র বাবার জন্মস্থান বা জাতের ভিত্তিতে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষণের মূল ভিত্তি হল সামাজিক বঞ্চনা, বৈষম্য এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত দুর্ভোগ। সেই বঞ্চনা পিতৃসূত্রে নাকি মাতৃসূত্রে এসেছে, তা সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য তৈরি করতে পারে না। সন্তান যদি মায়ের জাত ও সামাজিক পরিবেশে বড় হয়ে বৈষম্যের শিকার হয়, তবে তাকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

পুদুচেরি সরকারের যুক্তি ছিল, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সাধারণত বাবার জাতই সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আদালত এই পুরুষতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী ধারণাকে সরাসরি খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, তা সংবিধানের ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মামলার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের বাবারা অন্য রাজ্যের হলেও মায়েরা পুদুচেরির স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংরক্ষিত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অথচ প্রশাসন তাঁদের জাতিগত শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেছিল। আদালত পুদুচেরি প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারীদের মায়ের স্থানীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এসসি, এমবিসি বা ওবিসি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে এবং সেখানে স্থানীয় বাসিন্দার মর্যাদাও উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে তাঁরা পুদুচেরিতে সমস্ত সরকারি সুবিধা ও সংরক্ষণের অধিকার লাভ করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *