নেপালে প্রলয়ংকারী হড়পা বান: মৃত ১২০০ পার, কাদামাটির নীচে চাপা পড়ছে শৈশব!

নেপালে প্রলয়ংকারী হড়পা বান: মৃত ১২০০ পার, কাদামাটির নীচে চাপা পড়ছে শৈশব!

ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে নেপাল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১,২৫২ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২১৬ জনেরও বেশি মানুষ, যদিও বেসরকারি মতে নিহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ। চারপাশের এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মাঝে কাদামাটিতে লেপ্টে থাকা সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রোশন মিজারের স্কুলব্যাগ কিংবা প্লাস্টিকের স্কেল যেন নেপালের হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য শৈশবের করুণ আখ্যান তুলে ধরছে। এই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়।

তবে এই মৃত্যুর মিছিলের মাঝেও কিছু মানুষের বেঁচে ফেরার গল্প সত্যিই অলৌকিক। দেবীঘাটের একটি বৃদ্ধাশ্রমের ৯১ বছর বয়সী গুনা মায়া বোহরা তেমনই এক মিরাকলের সাক্ষী। একতলার ঘরে হু হু করে কাদা-জল ঢুকে যাওয়ার পর নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি জানলা দিয়ে শুধু মাথাটা বাইরে বের করে রেখেছিলেন। এভাবেই ২-৩ ঘণ্টা লড়াই করার পর তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

ভোটকোশি নদীর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মী বিষ্ণু বাহাদুর থাপার অভিজ্ঞতাও শিউরে ওঠার মতো। সুড়ঙ্গের ভেতর আচমকা প্রবল স্রোতে জল ঢুকতে শুরু করলে, তিনি কোনওক্রমে জলের উপর মাথা ভাসিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন।

অন্যদিকে, ত্রিশূলি নদীর ভয়াল স্রোতের মাঝেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ৪০ বছরের পুরোনো সবুজ বাড়ির ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। বাড়ির মালিক প্রকাশ জানান, নদীর জল বাড়তে দেখে তিনি পরিবার নিয়ে চারতলার ছাদে আশ্রয় নেন। বন্যায় তাঁর গাড়ি ও দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হলেও, মজবুত নির্মাণের কারণে তাঁদের বাড়িটি টিকে যায়। সবকিছু হারিয়েও ধ্বংসস্তূপের মাঝেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন প্রকাশের মতো নেপালের বহু মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *