বিনা রক্তে ও বিনা খরচে মিলবে ডায়াবেটিসের হদিশ! বিপ্লব ঘটিয়ে তাক লাগাল মেদিনীপুরের গবেষকরা

আপনি কি ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগে আক্রান্ত? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে আর রক্ত দেওয়ার বা শতাধিক টাকা খরচ করে প্যাথলজিক্যাল সেন্টারে ছোটার দিন শেষ। এবার বাড়িতে বসেই খুব সহজেই জেনে নেওয়া যাবে আপনার শরীরে নীরবে রোগটি বাসা বাঁধছে কি না। তেমনই এক যুগান্তকারী ও অভাবনীয় ডিভাইস-মডেল তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মেদিনীপুরের গবেষকরা।
গবেষকদের দাবি, এই ডিভাইসটি দেখতে এবং ব্যবহারের দিক থেকে অনেকটা পালস অক্সিমিটারের মতো। যন্ত্রটি আঙুলে ছোঁয়ালেই এর থেকে ইনফারেড বা অবলোহিত রশ্মি রক্তের মধ্যে প্রবাহিত হবে। নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা কারেন্ট এবং ভোল্টেজ তৈরি করবে। হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি থাকার অর্থ শরীরে গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বেশি। এই গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন ইনফারেড রশ্মিকে শোষণ করে নিতে সক্ষম। শোষণের ফলে ভোল্টেজ কমে যায় এবং সেই ভোল্টেজের ওঠানামার মাত্রা দিয়েই নিখুঁতভাবে বলে দেওয়া সম্ভব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শরীরে সুগারের পরিমাণ ঠিক কত রয়েছে।
গবেষক কৌশিক দাস ও পিঙ্কু পালের কথায়, “আমরা চিহ্নিত ডায়াবেটিক রোগী এবং ডায়াবেটিস নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়ে পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ সাফল্য পেয়েছি। যন্ত্রটি আঙুলে স্পর্শ করালেই ৯৬০ ন্যানোমিটার ওয়েভলেংথের ইনফারেড রশ্মি শরীরে প্রবেশ করিয়ে ভোল্টেজ মাপা হয়। ভোল্টেজ যত কম হবে, সুগারের পরিমাণ তত বেশি হবে।”
গবেষকরা এই অভিনব যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন ‘নন-ইনভ্যাসিভ ব্লাড গ্লুকোজ় মেজারিং ইনস্ট্রুমেন্ট’। ইতিমধ্যেই এই গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে প্রকাশিত হয়েছে प्रतिष्ठित ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল অ্যাপ্লায়েড সায়েন্টিফিক রিসার্চ জার্নাল’-এ। মেদিনীপুরের রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক পিঙ্কু পাল, সুপ্রিয়া ভৌমিক, শ্রাবন্তী পাইন, দেবলীনা গিরি এবং বেলদা কলেজের অধ্যাপক কৌশিক দাস ও সঞ্জয় দাস যৌথভাবে এই গবেষণাটি সফল করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঘাতক রোগ বিশ্বজুড়েই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। এক বছর আগেও বিশ্বজুড়ে এই রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন, যা ২০৪৫ সালের মধ্যে বেড়ে ৭০০ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। সুগার পরীক্ষা করাতে গিয়ে বারবার সুই ফুটিয়ে রক্ত দেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় এবং সময় নষ্ট—এই সমস্ত ঝক্কি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতেই গবেষকরা এই মডেল তৈরির উদ্যোগ নেন।
যদিও এই মডেলটি এখনও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসেনি, তবুও গবেষক কৌশিক দাস আশাবাদী যে, খুব শীঘ্রই অত্যন্ত অল্প খরচে এটি সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।