১৪ কোটির বাঁধ এক নিমেষে ছারখার! গঙ্গার তোড়ে জল ঢুকতেই ভূতনীতে প্লাবনের হাহাকার

মানিকচক ব্লকের ভূতনীতে গঙ্গার জল বাড়তেই ফের দেখা দিয়েছে চরম বাঁধ বিপর্যয়। নদীর প্রাবল্যে কেশরপুর ও কালুটনটোলা এলাকার দুটি রিং বাঁধ ভেঙে ভূতনীর সংরক্ষিত অঞ্চলে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নদীভাঙন ও প্লাবনের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড় চন্দ্র মণ্ডল। গত বছর প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই ১৮০০ মিটার রিং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পেছনে অপরিকল্পিত কাজ ও সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে সেচ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জল আটকানোর নির্দেশ ও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই বাঁধ বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা চরম আকার ধারণ করেছে। সিপিআইএম নেতার মতে, অতীতে বাঁধ তৈরিতে দুর্নীতির ফলেই এই বিপত্তি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্তরে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাল্টা জবাব দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বিজেপির দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধের আহ্বান জানান। গত বছরের ভয়াবহ প্লাবনের পর নির্মিত বাঁধ এভাবে চোখের সামনে ধসে যেতে দেখে হতাশ কেশরপুরের বাসিন্দারা। বারবার গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এখন দিন কাটছে ভূতনীর লক্ষাধিক মানুষের। প্রশাসনের তরফ থেকে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু হলেও গঙ্গার ক্রমাগত জলবৃদ্ধি ভূতনীবাসীর উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।