মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপর্যয়: ‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলটকে ছাঁটাই করল এয়ার ইন্ডিয়া

মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপর্যয়: ‘নেশাগ্রস্ত’ পাইলটকে ছাঁটাই করল এয়ার ইন্ডিয়া

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝআকাশে ঘটে গেল এক আশঙ্কাজনক দুর্ঘটনা। ওড়িশার আকাশসীমায় ৩৬ হাজার ফুট উঁচুতে ওড়ার সময় হঠাৎই বিমানটির তিনটি হাইড্রলিক ব্যবস্থা একসঙ্গে অকেজো হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অটোপাইলট এবং বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসে। এই আকস্মিক পতনে বিমানে থাকা ১৪৫ জন যাত্রীর মধ্যে ২৪ জন আহত হন। আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।

অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী পাইলট ও সহ-পাইলটের মাদক পরীক্ষা (Drug Test) করা হলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর প্রাথমিক পরীক্ষায় বিমানের মূল ক্যাপ্টেনের শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ বা নেশাজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। তবে সহ-পাইলটের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পাইলটের নেশাগ্রস্ত থাকার সঙ্গে বিমানের হাইড্রলিক ব্যবস্থা অকেজো হওয়ার সরাসরি কোনো সংযোগ আছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির আসল কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে যাত্রী নিরাপত্তা এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে অভিযুক্ত পাইলটকে তৎক্ষণাৎ চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে মাঝআকাশের তীব্র ঝাঁকুনি (ট্যার্বুলেন্স) বলা হলেও, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *