মেয়াদ শেষের মুখে ঐতিহাসিক চুক্তি, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে?

মেয়াদ শেষের মুখে ঐতিহাসিক চুক্তি, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে?

গত শতাব্দীর পাঁচের দশক থেকে ফরাক্কা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে টানাপড়েনের সূচনা ঘটে। দীর্ঘ বিরোধের পর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা অনুযায়ী, প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শুষ্ক মরসুমে ফরাক্কায় জলের প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে জল বণ্টন করা হয়ে আসছে। তবে ঐতিহাসিক এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন এবং উভয় দেশের ক্রমবর্ধমান জলের চাহিদার ফলে এই চুক্তি নবীকরণ নাকি নতুন রূপরেখা গঠন—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নতুন চুক্তিতে ভারত যেমন নিজস্ব চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত জলের প্রবাহ ও চুক্তির মেয়াদ কমানোর কথা ভাবছে, তেমনই বাংলাদেশ সর্বনিম্ন ৪০ হাজার কিউসেক জল নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার দাবি জানাচ্ছে। সীমান্ত রাজনীতি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক আবহে চলতি বছরের শেষে ফরাক্কার জলবণ্টন কোন পথে চালিত হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *