নাতনির সঙ্গে ঠাট্টাই ‘অপরাধ’! সালিশি সভায় অপমানে বিষ খেলেন ৮০-র বৃদ্ধ
নন্দীগ্রাম: নাতনি সম্পর্কের এক যুবতীর সঙ্গে নির্দোষ হাসি-ঠাট্টাকে কেন্দ্র করে তৈরি হলো চরম বিতর্ক। সালিশি সভায় ডেকে আশি বছরের এক বৃদ্ধকে অহেতুক অপমান এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় একটি বাজার কমিটির চার সদস্যের বিরুদ্ধে। এই অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়িতে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই বৃদ্ধ। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। সংঙ্কটজনক ওই বৃদ্ধের নাম বুলাশ্যাম মণ্ডল।
ঘটনার নেপথ্যে: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া বাজারে বুলাশ্যামবাবুর একটি ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। প্রায় দু’মাস আগে তাঁর দোকানে আসেন প্রতিবেশী তথা সম্পর্কে নাতনি ২৪ বছরের এক যুবতী। কেনাকাটার ফাঁকে দাদু ও নাতনির মধ্যে স্বাভাবিক ও হালকা মেজাজে কিছু হাসি-মশকরা হয়। অভিযোগ, বিষয়টি নজরে আসতেই সোনাচূড়া বাজার কমিটির চার সদস্য—চন্দন মণ্ডল, বেণীমাধব মণ্ডল, লক্ষীকান্ত মান্না এবং হিমাংশু মান্না এটিকে নিয়ে জলঘোলা শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার একটি সালিশি সভা বসিয়ে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নাতনির সঙ্গে অসদাচরণের ‘মিথ্যা’ অভিযোগ তুলে ধরে তাঁকে চরম অপমান করা হয় এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়।
“দাদুর ওপর কোনো অভিযোগ নেই”, সরব যুবতী: সালিশি সভা থেকে ফিরে তীব্র মানসিক কষ্টে বিষ পান করেন বৃদ্ধ। অথচ যে যুবতীকে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনা সাজানো হলো, তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে দাদুর প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগই ছিল না। যুবতীর কথায়, “ছোটবেলা থেকে দাদুর সঙ্গে এমন রসিকতা করেই আসছি। মাছ কেনার সময় দাদু কথার ছলে সামান্য ঠাট্টা করেছিলেন, তাতে খারাপ কিছু ছিল না। কিন্তু এলাকার কয়েকজন অহেতুক বিষয়টিতে রং চড়িয়ে দাদুকে ডেকে এনে অপমান ও জরিমানা করেছে। এটা বড্ড বাড়াবাড়ি।” বৃদ্ধের ছেলে ভূদেব মণ্ডল নন্দীগ্রাম থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও বাবাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও পুলিশি পদক্ষেপ: বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত চারজন এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির পুরনো ইতিহাস রয়েছে। যদিও বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিজেপির নাম ভাঙিয়ে কোনো অন্যায় করা হলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। স্থানীয় সাধারণ দোকানদাররাও এই তোলাবাজির ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
সমগ্র ঘটনা প্রসঙ্গে হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার বর্মা জানান, নন্দীগ্রাম থানায় পরিবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।