ক্ষমতায় আসার চার মাসেই বিতর্কের মুখে বিজেপি সরকার, অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি

ক্ষমতায় আসার চার মাসেই বিতর্কের মুখে বিজেপি সরকার, অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার। বিরোধীদের আক্রমণের পাশাপাশি দলের একাংশের কর্মী-সমর্থকদের ভূমিকা ও মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপি ও সংঘ পরিবারের অন্দরে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের দাবি থেকে শুরু করে কলকাতার সংবাদপত্রের কার্যালয়ের দেওয়াল গেরুয়া রঙে রাঙানোর অভিযোগ—একাধিক ঘটনায় কোণঠাসা শাসকদল।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের আবহে যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম বদলে শ্রীঅরবিন্দের নামে করার প্রস্তাব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে শ্রীঅরবিন্দের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে দাবি করে তিনি এই প্রস্তাব আনলেও, এটিকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বলে মানতে নারাজ রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এটি বিধায়কের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত এবং দলের কোনও নির্দিষ্ট এজেন্ডা নয়।

এরই মধ্যে কলকাতার একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ এবং ভবনের অংশবিশেষ গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। তবে এই ঘটনা থেকেও দল ও সরকারকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানান, উন্নয়নের বাইরে কোনও নির্দিষ্ট জায়গার রং বদলানো এই সরকারের লক্ষ্য নয় এবং এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিরা বিজেপির কেউ নন।

এদিকে দলীয় নেতৃত্বের এই সতর্ক অবস্থানের মধ্যেই বিজেপির দ্রুত সম্প্রসারণ ও নতুন যোগদান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংঘ পরিবারের একাংশ। তাদের মতে, ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দলের দ্রুত বিস্তারের ফলে বহু নতুন মানুষ দলে যোগ দিলেও তাঁরা আরএসএস-এর সাংগঠনিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, যার ফলে পুরনো রাজনৈতিক অভ্যাস বিজেপিতে ফিরে আসছে।

এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে শাসক শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ উভয়েই বিজেপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রশাসনিক কাজ ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চাইলে নতুন ও পুরনো কর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন বিজেপি নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *