‘সম্পর্ক শুধুই কূটনৈতিক নয়, সভ্যতার’: ট্রাম্পের হুমকির মুখে ভারতকে আশ্বস্ত করল ইরান

কিরঘিজস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের এক সপ্তাহের মধ্যেই নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল তেহরান। সোমবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানান, ভারতের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বন্ধন কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই প্রাচীন সভ্যতার এক গভীর মেলবন্ধন।
ব্রিকস সম্মেলন ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ইসমাইল বাঘাই উল্লেখ করেন, ভারত ও ইরান—উভয় দেশই এসসিও এবং ব্রিকস-এর মতো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মঞ্চের সদস্য। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক যথেষ্ট চমৎকার। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে ইরান। আশা করা হচ্ছে, সেই সম্মেলনের ফাঁকেই দুই দেশের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার আবহে মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পরেই বিষয়টিতে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর বক্তব্য সামনে আসে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সাথে আর্থিক লেনদেন বা বাণিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে এড়িয়ে চলার সামিল হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
তবে ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ভারতের জন্য ইরানের গুরুত্ব অপরিসীম। পাকিস্তানকে এড়িয়ে সরাসরি আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে ইরানের ‘চাবাহার বন্দর’ প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে নয়াদিল্লি। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি সামলানো এবং অন্যদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দর রক্ষা করা—আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।