‘আমেরিকার দাদাগিরিতে অন্ধ কানাডা!’: হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ওটাওয়াকে তীব্র তোপ তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইস্যুতে এবার কানাডার বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানাল ইরান। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই অভিযোগ করেছেন যে, কানাডা ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি’-তে ভুগছে এবং নিজের কূটনৈতিক স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে অন্ধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী অবস্থানকে সমর্থন করছে।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের ‘অস্থিতিশীল ভূমিকা’র কঠোর সমালোচনা করার পরেই ইরানের এই প্রতিক্রিয়া সামনে এলো।
কানাডার দিকে তেহরানের আঙুল: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ইসমাইল বাগাই দাবি করেন, কানাডা অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা না করে বরং নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানাচ্ছে—যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিজেদের “দাদাগিরি করা প্রতিবেশীকে” (আমেরিকা) সন্তুষ্ট রাখা।
কানাডার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাগাই বলেন, “কানাডা একদিকে আন্তর্জাতিক আইন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও শান্তির বার্তা দেবে, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আগ্রাসন ও অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধকে সমর্থন জোগাবে—এই দ্বিচারিতা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, আমেরিকা ও কানাডার নিজেদের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও চুক্তিগুলোর কোনো স্থায়িত্ব নেই, তা সত্ত্বেও ওটাওয়া আমেরিকার ভয়ের রাজনীতির কাছে নতিস্বীকার করছে।
ইরানকে চেপে ধরতে কানাডার কড়া অবস্থান: এর আগে এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডার দুই শীর্ষ মন্ত্রী অনিতা আনন্দ ও ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন জানান, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হুমকি, অবৈধ পারমাণবিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মাধ্যমে ইরান বিশ্ব শান্তি বিঘ্নিত করছে।
কানাডা স্পষ্ট করেছে যে তারা জি-৭ (G7) মিত্রদের সাথে মিলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা চালিয়ে যাবে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে ওটাওয়া। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে কানাডা বিশেষ আইনের মাধ্যমে প্রায় ৪৯২ জন ইরানি ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর বিভিন্ন শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।
হরমুজ প্রণালীতে পাল্টাপাল্টি সামরিক আঘাত: পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করে, মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি-র নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীর অননুমোদিত জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারকে নিশানা করে। ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
নেপথ্যে আমেরিকা-কানাডা বাণিজ্য সংঘাত: ইরান ও কানাডার এই কথার লড়াই এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ওয়াশিংটন ও ওটাওয়ার মধ্যেও বাণিজ্য বিরোধ তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডীয় ব্যবসা ও কর্মীদের সুরক্ষার কথা বললেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে কড়া শুল্কের হুমকি দিয়েছেন। তেহরানের দাবি, আমেরিকা থেকে আসা এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সামলাতেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়াশিংটনের সুর মিলিয়ে কথা বলছে কানাডা।