দিল্লির সত্য নিকেতনে ৫ তলা পিজি বিপর্যয়: নিহত ৭, গ্রেপ্তার মালিকসহ ৩!

দিল্লির সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা পিজি (পেয়িং গেস্ট) ভবন ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হলেও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ বাড়ির মালিক উর্মিলা গুপ্তা (৭৫), তাঁর স্বামী তথা বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হরিরাম গুপ্তা (৮১) এবং তাঁদের ছেলে মহেশ গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, পিজি অপারেটর ও লেবার কন্ট্রাক্টরের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ ও হতাহত চিফ ফায়ার অফিসার এ কে মালিক জানান, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সাবধানতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৪ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতরা হলেন আসগর আলি (৪৯), নীরজ বাওয়া (১৯), আদিত্য কুমার (১৯) এবং নীতিশ চিব (১৯)। এছাড়া কৃষ্ণ (৩০) নামের এক ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
প্রশাসনের তৎপরতা ও ৫ আধিকারিক সাসপেন্ড ঘটনার পর দিল্লির উপ-রাজ্যপাল (LG) রঞ্জিত সিং মুখ্য সচিব, এনডিআরএফ (NDRF), পুলিশ কমিশনার এবং পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। তিনি অনিরাপদ ভবনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আক্রান্ত ছাত্রদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গাফিলতির দায়ে পুরসভার (MCD) সাউথ জোনের ৫ জন সিনিয়র আধিকারিককে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকরা হলেন—ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার, সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার রণবীর সিং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ললিত কুমার গোয়েল, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুনীল চৌহান এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আশিস কুমার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পিজি, নার্সিংহোম বা স্কুলের মতো সমস্ত পাবলিক বিল্ডিংয়ের জন্য ‘সেফটি সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে রাজ্য সরকার দ্রুত নতুন নীতি আনছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও পুরসভার অভিযান বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে দিল্লি হাইকোর্ট এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীর সমস্ত পিজি এবং হোস্টেলের সেফটি অডিট করার নির্দেশ দিয়েছে পুরসভাকে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার দায় শুধু বাড়ি মালিকের ওপর চাপালেই চলবে না, সরকারি সংস্থাগুলিকেও জবাবদিহি করতে হবে।
ইতিমধ্যেই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD) ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিকে ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করে তিন দিনের মধ্যে পুরোপুরি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, সংলগ্ন এলাকার সমস্ত বেআইনি ও অনিরাপদ পিজি চিহ্নিত করে সিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।