আরজি করে ফের নিরাপত্তার গলদ! অরক্ষিত চেস্ট মেডিসিন, মধ্যরাতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নার্সরা

আরজি করে ফের নিরাপত্তার গলদ! অরক্ষিত চেস্ট মেডিসিন, মধ্যরাতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নার্সরা

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অতি-সংবেদনশীল চেস্ট মেডিসিন বিভাগে ফের বড়সড় নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগ উঠল। ৮ অগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার দুই বছর পার হলেও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো বাস্তব উন্নতি হয়নি বলে রবিবারের অনভিপ্রেত ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

কী ঘটেছিল রবিবার রাতে? রবিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ চেস্ট মেডিসিন বিভাগে কর্মরত নার্সরা লক্ষ করেন, ভেতরের নার্সিং স্টেশনের সামনে দায়িত্বে থাকা মহিলা নিরাপত্তারক্ষী অনুপস্থিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্ধারিত মহিলা রক্ষী অসুস্থতার কারণে কাজে যোগ দিতে পারেননি। কিন্তু অতি-স্পর্শকাতর এই বিভাগে তাঁর পরিবর্তে কোনো বিকল্প মহিলা রক্ষী মোতায়েন করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পুরো নার্সিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

নার্সদের প্রতিবাদ ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা: এই নিরাপত্তা হীনতার কথা জানিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্তব্যরত নার্সরা। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টে পরামর্শ দেয়—বাইরে থাকা পুরুষ রক্ষীদের ডাকতে। এতে নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, অগস্টের সেই অভিশপ্ত রাতেও তো বাইরে পুরুষ রক্ষীরা ছিলেন, কিন্তু আক্রান্ত তরুণী চিকিৎসক কি আদৌ তাঁদের ডাকার সুযোগ বা সময় পেয়েছিলেন?

নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে অনড় থেকে মধ্যরাত সাড়ে বারোটা নাগাদ নার্সরা হাসপাতাল প্রশাসন ও সিআইএসএফ (CISF) কর্তার দফতরে গিয়ে লিখিত নালিশ জানান। নার্সদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষমেশ রাত একটার পর গাইনোকোলজি বিভাগ থেকে একজন মহিলা রক্ষীকে সরিয়ে এনে চেস্ট মেডিসিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের সাফাই: এই ঘটনার খবরে ক্ষোভ ও হতাশায় ভেঙে পড়েন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরও আদতে কিছুই বদলায়নি। আরজি কর আজও সেই পুরোনো বিপজ্জনক জায়গাতেই আটকে রয়েছে।”

অন্য দিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আরজি করের এমএসভিপি (MSVP) সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মহিলা রক্ষীর হঠাৎ অসুস্থতার কারণেই বিকল্প রক্ষী পাঠাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। তিনি আশ্বাস দেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাই তাঁদের অগ্রাধিকার এবং এই ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *