লালকেল্লায় আত্মঘাতী হামলা: গাড়ির ভেতরেই ছিল ঘাতক উমর, NIA-র বিস্ফোরক চার্জশিট

নয়াদিল্লি: লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা ছিল বলে নিশ্চিত করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। আদালতে পেশ করা সাম্প্রতিক চার্জশিটে সংস্থাটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যে, বিস্ফোরণের সময় মূল অভিযুক্ত উমর উন নবি তার নিজের চালানো ‘Hyundai i20’ গাড়িটির ভেতরেই ছিল। গাড়ির ভিতর থেকে বিস্ফোরক যন্ত্রটি সক্রিয় করার ফলেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ১৫ জন নিরীহ মানুষ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া জৈব নমুনার DNA পরীক্ষা করে গাড়ির ভেতরে উমরের উপস্থিতির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারীরা।
দুই বছরের দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ও রেকি: NIA-র তদন্তে উঠে এসেছে, এই হামলা কোনো হুটহাট নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল না। প্রায় দু’বছর ধরে এর নীলকখন তৈরি করা হচ্ছিল। নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত উল হিন্দ’-এর মডিউলকে নতুন করে চাঙ্গা করার দায়িত্বে ছিল এই উমর উন নবি। তাকেই পুরো অপারেশনের ‘ইনচার্জ’ বানানো হয়। চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই লালকেল্লাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়ে একাধিকবার রেকি করা হয়েছিল। শুধুমাত্র পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, ‘ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতীক’ হিসেবে আঘাত হানতেই লালকেল্লাকে বেছে নেয় জঙ্গিরা।
গ্রেফতারির ভয়ে তড়িঘড়ি হামলা: হামলার দিনক্ষণ আগে থেকে নির্দিষ্ট করা ছিল না। তবে সম্প্রতি কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ও সন্দেহভাজন গ্রেফতার হওয়ার পর উমরের মনে ধরা পড়ার ভয় তৈরি হয়। তাদের গোপন ছক তদন্তকারী সংস্থার নজরে চলে এসেছে— এই আশঙ্কায় পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করতে গিয়ে তড়িঘড়ি এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় উমর।
গাড়ির ভেতর থেকে ট্রিগার ও বিস্ফোরক উদ্ধার: তদন্তে জানা গেছে, উমরের চালানো গাড়িটিকেই বিস্ফোরকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফরেন্সিক রিপোর্টে বিস্ফোরণস্থল থেকে বিপজ্জনক TATP এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গাড়ির ভেতর থেকে একটি বিশেষ ‘কমান্ড মেকানিজম’-এর সাহায্যে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।
উমরের ভূমিকা ও গোপন যোগাযোগ: শুধু হামলা চালানোই নয়, তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা, গোপন বৈঠক, বেআইনি অস্ত্র সংগ্রহ, তহবিলের ব্যবস্থা এবং আস্তানার জোগাড়— সব কিছুর নেপথ্যেই ছিল উমর। নজরদারি এড়াতে জম্মু-কাশ্মীর ও দিল্লি-NCR-এ গোপন বৈঠকের পাশাপাশি যোগাযোগের জন্য তারা ‘সিগন্যাল’-এর মতো এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত।