‘ভাল তৃণমূল’ থেকে ‘১১ হাতের দেবী’: চার মাসেই একের পর এক বিতর্কের জালে পদ্ম শিবির!

ক্ষমতায় আসার চার মাস পার হতে না হতেই একাধিক বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের রাজ্য সভাপতিকে যেমন ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে, তেমনই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হচ্ছে। বিরোধী দলের আক্রমণের পাশাপাশি আরএসএস এবং দলের অন্দরের ক্ষোভ পদ্ম শিবিরকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
১. ‘ভাল তৃণমূল’ ও দলে যোগদান বিতর্ক বিতর্কের সূত্রপাত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের “ভাল তৃণমূলীরা দলে স্বাগত” মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এর পর দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূল সাংসদদের এনডিএ-কে সমর্থন ও দলে যোগদানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরোনো কর্মীরা। সঙ্ঘের মুখপত্রেও সতর্ক করে জানানো হয় যে, সাধারণ মানুষের মনে দুর্নীতির সামান্যতম ছায়াও পড়লে ৯০ শতাংশ ভোটার মুখ ফিরিয়ে নিতে সময় নেবে না।
২. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও নাম বদলের দাবি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘাতের পর শমীক ভট্টাচার্য জানান, এবিভিপির সঙ্গে বিজেপির সরাসরি কোনো দাপ্তরিক যোগ নেই। এর কিছু পরেই স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘ঋষি অরবিন্দ’-র নামে রাখার দাবি তুলে বিতর্ক বাড়ান। তবে রাজ্য সভাপতি একে বিধায়কের “ব্যক্তিগত মতামত” বলে দায় এড়ান।
৩. অগ্নিমিত্রা পলের দুধ বিতর্ক ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ফুটপাত মুক্ত অভিযানে গিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এক ফুটপাতবাসিনী মাকে সন্তানের জন্য ফুটপাতে দুধ ফোটাতে বাধা দেন। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ক্ষোভ কমাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই মহিলাকে (রশিদা) সাহায্য ও বাসস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রাও নিজের ভুল স্বীকার করেন।
৪. আমিষ-নিরামিষ সংঘাত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পুজো নির্দেশিকা এবং বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর “দুর্গাপুজোয় মাংস খাওয়া পাপ” মন্তব্যে বাঙালি খাদ্যভ্যাস ও সংস্কৃতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। শমীক ভট্টাচার্য স্বামী বিবেকানন্দের রেফারেন্স টেনে বাঙালির আমিষ খাওয়ার সমর্থন করলেও বিরোধীদের আক্রমণ থামেনি।
৫. দেবীর ১১ হাত বিজ্ঞাপন বিতর্ক সবশেষে দুর্গাপুজোর একটি সরকারি বিজ্ঞাপনে দেবীর ১১টি হাত দেখানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। প্রথমে হালকা চালে বিষয়টিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি ঘোরালো দেখে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত প্রশাসনিক কাজ ও উন্নয়নকে সামনে না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদল বা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জড়িয়ে পড়া সরকারের ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। দলটির একাংশ মনে করছে, অবিলম্বে এই ধরনের অনভিপ্রেত বিতর্ক এড়িয়ে না চললে ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।