নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ? মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বড় চাল!

নভেম্বরেই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ? মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের বড় চাল!

ওয়াশিংটন: আগামী নভেম্বরের মিডটার্ম (মধ্যবর্তী) নির্বাচন শেষ হলেই ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এবং আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচে জেরবার সাধারণ আমেরিকানদের অসন্তোষের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন রেকর্ড তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে যুদ্ধের ইতি টানার বার্তা ট্রাম্পের এক বড় কৌশলগত চাল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও ট্রাম্পের দাবি

ট্রাম্পের বক্তব্য, “ভোট শেষ হলেই যুদ্ধ থেমে যাবে, কারণ ইরান এত দিন টানতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, তেহরান মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান ওয়াশিংটনে এমন এক দুর্বল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ক্ষমতায় আনতে চায়, যারা তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না এবং তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দেবে।

পরমাণু চুক্তি ও নতুন শর্ত

তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে সরাসরি আলোচনা না চললেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আলোচনার টেবিলে আরও একাধিক কঠোর শর্ত চাপানো হবে।

হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখন মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রধান হটস্পটে পরিণত হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এর প্রভাবে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশ তীব্র জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের সংকটে পড়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হামলা থামবে না, বরং আগামী দিনে এমন হামলার মাত্রা আরও বাড়বে।

কেন ট্রাম্পের জন্য জীবন-মরণ পরীক্ষা এই মিডটার্ম নির্বাচন?

আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের একাংশে ভোটগ্রহণ হবে।

  • রিপাবলিকানরা জয়ী হলে: ট্রাম্পের হাত শক্ত হবে, নতুন আইন পাস ও যুদ্ধসংক্রান্ত সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সহজ হবে।
  • ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে: কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য ট্রাম্পের হাতছাড়া হয়ে যাবে। ট্রাম্পের যেকোনো বিলে বাধা আসবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বা সিদ্ধান্ত নেওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের আস্থা হারিয়ে রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তায় পড়বে এবং যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *