গালওয়ানের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-শি মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা

গালওয়ানের পর প্রথম! ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি-শি মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা

দীর্ঘ ৭ বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (১২-১৩ সেপ্টেম্বর) ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে। তবে, এখনও কোনও দেশের তরফেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।

২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক ফাটল ধরে। ২০১৯ সালের পর এটাই জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। যদি এই বৈঠকটি বাস্তবায়িত হয়, তবে গালওয়ান কাণ্ডের পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের মঞ্চে তাঁদের দেখা হলেও, তা কেবল করমর্দনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এই সম্ভাব্য মেগাবৈঠকের প্রেক্ষাপট প্রস্তুত করতে সম্প্রতি চিন সফর করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সেখানে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনাও হয়েছে।

গালওয়ান সংঘর্ষের পর দফায় দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। বিশেষত, অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ বা দক্ষিণ তিব্বত বলে চিনের ভিত্তিহীন দাবি এখনও নয়াদিল্লির অন্যতম মাথাব্যথা। যদিও ভারত বরাবরই কড়া ভাষায় জানিয়ে এসেছে, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদি-শি বৈঠক হলে সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়ানোর মতো বিষয়গুলি অগ্রাধিকার পাবে। তবে ভারতের অবস্থান এই বিষয়ে একদম স্পষ্ট— সীমান্তে পুরোপুরি শান্তি ও স্থিতাবস্থা না ফিরলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। তাই ব্রিকসের মঞ্চে সম্ভাব্য এই বৈঠক দুই দেশের আগামী দিনের কূটনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *