‘শারদোৎসব’ লিখলে হবে না বুকস্টল! শুভেন্দুর ফতোয়াকে ‘ছেলেমানুষি’ বললেন পবিত্র, উড়িয়ে দিল বামেরা

‘শারদোৎসব’ লিখলে হবে না বুকস্টল! শুভেন্দুর ফতোয়াকে ‘ছেলেমানুষি’ বললেন পবিত্র, উড়িয়ে দিল বামেরা

কলকাতা: দুর্গাপুজো প্রাঙ্গণে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল বসানো দীর্ঘদিনের এক পরিচিত ছবি। তবে এবার সেই অভ্যাসে রাশ টানার হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, মণ্ডপের বাইরে কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দিতে হলে বোর্ডে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখতে হবে ‘দুর্গাপুজো’। সনাতন ধর্ম বা গেরুয়া প্রতীকের বিরোধিতা করা হলে আগামী দিনে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও দাবি করেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “একশ্রেণির অধ্যাপক বামপন্থী সেজে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। পুজো কমিটিকে বলব, কমিউনিস্টরা ‘দুর্গাপুজো’ না লিখে ‘শারদোৎসব’ লিখলে মণ্ডপ প্রাঙ্গণে স্টল করতে দেবেন না।” তাঁর এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য—দুর্গাপুজো যে কেবল সামাজিক উৎসব নয়, বরং একটি পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান, তা বামপন্থীদের মেনে নিতে বাধ্য করা।

পবিত্র সরকারের প্রতিক্রিয়া: বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও ‘ছেলেমানুষি’ বলে তোপ দেগেছেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ পবিত্র সরকার। তিনি বলেন, “শারদোৎসব আর দুর্গাপুজোর মধ্যে কোনো ফারাক নেই। আক্ষরিক অর্থ যা-ই হোক, ব্যঞ্জনায় ‘শারদোৎসব’ বলতে দুর্গাপুজোকেই বোঝায়। বিরোধী দলনেতার এমন মন্তব্য তাঁর পদের পক্ষে মোটেই শোভা পায় না। আইনের চোখে এর কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না, তা আদালতই বিচার করবে।”

বাম নেতৃত্বের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: শুভেন্দু অধিকারীর এই হুঁশিয়ারিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ সংক্ষেপে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “আমাদের যা করার করব, ওঁর যা ক্ষমতা আছে করে নিন।”

অন্যদিকে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বিষয়টিকে মূল সমস্যা থেকে চোখ সরানোর রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের বঞ্চনার মতো আসল বিষয়গুলো থেকে নজর ঘোরাতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন শব্দ বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *