বালিয়াড়ির বুকে জলের সন্ধান! মরুভূমির ভাগ্য ফেরাল যে বন্য গাধার দল

বালিয়াড়ির বুকে জলের সন্ধান! মরুভূমির ভাগ্য ফেরাল যে বন্য গাধার দল

মরুভূমি বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে অফুরন্ত বালিয়াড়ি, রুক্ষ প্রান্তর আর খাঁ খাঁ করা রোদ। তবে ইজরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে এমন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে, যা মরুভূমির প্রচলিত ধারণাই বদলে দিয়েছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দেওয়া এই অলৌকিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে মাত্র ২৮টি বন্য গাধা!

বিলুপ্তির মুখ থেকে প্রত্যাবর্তন গল্পটির সূচনা ইজরায়েলের ঐতিহাসিক র্যামন ক্রেটার অঞ্চলে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে অতিরিক্ত শিকারের কারণে এই এলাকা থেকে বন্য গাধা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকৃতির ভারসাম্য ফেরাতে ১৯৭০-এর দশকে ইথিওপিয়ার আফ্রিকান বন্য গাধা এবং ইরানের পার্সিয়ান ওনাগারের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন ঘটানো হয়। এরপর ১৯৮২ সালে সেই কৃত্রিম উপায়ে গড়ে তোলা প্রজাতি থেকে ২৮টি গাধাকে উন্মুক্ত মরুভূমিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। চার দশক পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০-তে।

কীভাবে মরুভূমির জীবনদাতা হয়ে উঠল তারা? ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চরম দাবদাহ সহ্য করার ক্ষমতা এবং ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে দৌড়ানোর পাশাপাশি, এই গাধাগুলোর প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস পুরো মরুভূমির ইকোসিস্টেম বদলে দিয়েছে:

  • ভূগর্ভস্থ জলের খোঁজ: তীব্র জলকষ্টে গাধাগুলো তাদের শক্তিশালী খুর দিয়ে বালুচর ও পাথুরে মাটি খুঁড়ে প্রায় সাড়ে ৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে। এতে জমে থাকা ভূগর্ভস্থ জল উপরে উঠে আসে, যা শেয়াল, গাজেল ও বাদুড়ের মতো মরুভূমির অন্যান্য তৃষ্ণার্ত প্রাণীদেরও জীবন বাঁচায়।
  • সবুজ বনায়ন: এরা বাবুল গাছের ফল খাওয়ার পর মলত্যাগের মাধ্যমে সেই বীজ চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। ফলে কোনো কৃত্রিম যত্ন ছাড়াই রুক্ষ বালিতে নতুন গাছপালা গজিয়ে উঠছে।

১৯৮২ সালে শুরু হওয়া এই ছোট উদ্যোগটি আজ প্রমাণ করেছে যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। ইজরায়েলের এই বন্য গাধারা দেখিয়ে দিল, প্রকৃতির শক্তি আর সদিচ্ছা একসঙ্গে মিললে মরুভূমিও নতুন জীবনের আলো খুঁজে পেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *