বস্তাবন্দি প্রেমিকার দেহ! মাঝরাতে রক্তমাখা বাইক-সহ পুলিশের জালে খুনি প্রেমিক
পুরুলিয়ায় প্রেমিকার গলা কেটে খুনের পর বস্তায় ভরে দেহ লোপাটের ভয়ংকর ছক কষেছিল প্রেমিক। তবে পুলিশের তৎপরতায় মাঝরাতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে গেল অভিযুক্ত। শনিবার গভীর রাতে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম অমিতকুমার মাহাতো।
শনিবার রাত ১২টা ২৫ মিনিট। বাঘমুণ্ডিতে রাস্তার ধারে রুটিন ডিউটিতে ছিল পুলিশ। সেই সময় একটি মোটর সাইকেল আরোহীকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বাইকের পিছনে একটি বিশাল আকারের বস্তা ছিল, যা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল। এমনকি বাইকটিতেও রক্তের দাগ স্পষ্ট ছিল। পুলিশ তড়িঘড়ি তাকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশের সামান্য জেরার মুখেই অমিত স্বীকার করে নেয় যে, বস্তার ভেতর তার প্রেমিকার মৃতদেহ রয়েছে এবং সে প্রমাণ লোপাট করতেই বেরিয়েছিল।
খুনের কারণ ও প্রেক্ষাপট: পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত এবং ওই তরুণী একই কোচিং সেন্টারে পড়তেন। সেখান থেকেই তাদের কয়েক বছরের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অমিতের বাড়ি বাঘমুণ্ডির হুড়ুমদা গ্রামে হলেও, সে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতির জন্য টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থাকত।
- সম্প্রতি অমিতের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে যে, ওই তরুণী অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।
- শনিবার তরুণী অমিতের মেসে দেখা করতে এলে এই নিয়ে দুজনের মধ্যে চরম কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
- বচসা চলাকালীন রাগের মাথায় তরুণীর গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে তাঁকে খুন করে অমিত।
এরপর রাতের অন্ধকারে দেহটি লোপাট করার জন্য সেটিকে বস্তাবন্দি করে বাইকে চাপিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে। কিন্তু মাঝপথে পুলিশের নাকা চেকিংয়ে তার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, মূলত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং সন্দেহের বশেই এই মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ধৃতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হবে। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।