“বিএসপি পরিবারবাদী নয়!” মায়াবতীর এক ঘোষণায় উল্টে গেল দলিত রাজনীতির সমস্ত হিসাব

“বিএসপি পরিবারবাদী নয়!” মায়াবতীর এক ঘোষণায় উল্টে গেল দলিত রাজনীতির সমস্ত হিসাব

বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সুপ্রিমো মায়াবতীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পদক্ষেপে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। লখনউয়ে দেওয়া এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে মায়াবতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর দল কোনোভাবেই পরিবারবাদী দল নয় এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা কাঁসি রামও পরিবারতন্ত্রের ঘোর বিরোধী ছিলেন।

অতীতে বড় ভাইপো আকাশ আনন্দকে সর্বভারতীয় আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ছোট ভাইপো ঈশান আনন্দকে নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মায়াবতী পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তাঁর ভাই আনন্দ কুমারের দুই ছেলে আকাশ বা ঈশানের বিএসপিতে আর কোনো বিশেষ জায়গা হবে না। পরিবারের কাউকে আর দলে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না।

তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে সামনে এসেছে বছর বাইশের তরুণী দীপিকার নাম। আনন্দ কুমারের তৃতীয় সন্তান তথা দিল্লিতে আইন নিয়ে পড়ুয়া দীপিকা যদি রাজনীতিতে আসতে চান, তবে তাঁর জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএসপি সুপ্রিমো। এমনকি আনন্দ কুমারকেও নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে মায়াবতী জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিজের ছেলেদের দলীয় দায়িত্ব দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং অবসর নিতে চাইলে অন্য কোনো পোড় খাওয়া দলিত নেতার হাতে দায়িত্ব সঁপে দিতে হবে তাঁকে।

মায়াবতীর এই অবস্থান বদলকে অত্যন্ত সতর্কভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দলের খারাপ ফল এবং বারবার ভাইপোদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে দলের অন্দরেও অসন্তোষ বাড়ছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, পরিবারের ভেতর থেকেই কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আশঙ্কায় এমন কড়া পদক্ষেপ করছেন মায়াবতী। বিশেষ করে আকাশ আনন্দকে তাঁর শ্বশুরের প্রভাবে চলার অভিযোগে সরিয়ে দেওয়ার পর, প্রবীণ এই নেত্রীর মানসিক ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নানা মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *