কানপুর ব্যবসায়ী হত্যায় নয়া মোড়: বউমার পর এবার পুলিশের আতসকাচে নিহত বিনীতের ছেলে

কানপুর ব্যবসায়ী হত্যায় নয়া মোড়: বউমার পর এবার পুলিশের আতসকাচে নিহত বিনীতের ছেলে

কানপুরের প্রবীণ ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা (৬৩) হত্যাকাণ্ডে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। এ বার তদন্তকারীদের আতসকাচে নিহতের ছেলে সুব্রত মিনোচার ভূমিকা। ঘটনার মূল অভিযুক্ত তথা শুটার বিশাল গৌতমের সঙ্গে সুব্রতের গভীর যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, খুনের রাতেই বিশালের একটি নতুন নম্বর থেকে সুব্রতকে ছ’বার ফোন করা হয়েছিল।

১,০০০ পাতার কল রেকর্ড ও পুলিশের সন্দেহ পুলিশের হাতে আসা কল ডিটেলস রেকর্ড (CDR) অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুব্রত ও অভিযুক্ত বিশাল গৌতমের মধ্যে ৩০৯ বার ফোনে কথা হয়েছে। ঘটনার দু’দিন আগে (৩ সেপ্টেম্বর) একটি নতুন সিম কার্ড কিনেছিলেন বিশাল। সেই নম্বর থেকেই সুব্রতকে ফোন করা হয়। বউমা শালুর নির্দেশে বিশাল যদি খুন করে থাকেন, তবে নিহতের ছেলেকে কেন বারবার ফোন করা হলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। বিষয়টি পরিষ্কার করতে বর্তমানে প্রায় ১,০০০ পাতার কল রেকর্ড খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সবাই যখন বাইরে একটি পার্টিতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ফাঁকা বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৬ বার কোপ মেরে খুন করা হয় বিনীত মিনোচাকে। রাত ৩টে নাগাদ বাড়ি ফিরে সুব্রত ও তাঁর স্ত্রী শালু রক্তাক্ত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। বাড়ি থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস চুরি না হওয়ায় পুলিশ শুরু থেকেই এটিকে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সুপরিকল্পিত খুন বলে সন্দেহ করছিল।

বউমার ষড়যন্ত্রের পর এবার ছেলের ভূমিকা তদন্তে সিসাটিভি ফুটেজ ও জেরার ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের বউমা শালু এবং দুই প্রাক্তন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, শ্বশুরের ওপর তিতিবিরক্ত হয়ে ৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রাক্তন কর্মী বিশালকে দিয়ে এই খুনের ছক কষেছিলেন শালু। এমনকি তাঁর হাতে বাড়ির ডুপ্লিকেট চাবিও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

তবে খুনের রাতে শুটারের সঙ্গে সুব্রতের ছ’বার কথাবাতায় পুরো ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। সুব্রতও কি এই চক্রান্তের বিষয়ে জানতেন নাকি তিনিও এতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে কানপুর পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *