নেপালে নিখোঁজ ৩২ পর্যটক, স্বজনদের চাকরি ও সহায়তার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের ২০ দিন অতিক্রান্ত হলেও এখনও সন্ধান মেলেনি ভ্রমণসূত্রে যাওয়া বাংলার ৩২ জন পর্যটকের। চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো এই নিখোঁজদের স্বজনেরা বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নিখোঁজ পরিবারের পাশে সার্বিকভাবে থাকার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও সরকারি আশ্বাস:
- কর্মসংস্থান ও আর্থিক সাহায্য: উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে চরম সংকটে পড়া চারজন নিখোঁজের পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, একটি পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক মাসের বেতন প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- সহজ যোগাযোগ ও সমন্বয়: প্রতি চারটি পরিবারের জন্য দুজন করে লিয়াজোঁ (Liaison) অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পরিজনদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে ও আপডেট পেতে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে।
- পুনর্বার পর্যালোচনার বৈঠক: আগামী এক মাস পর নিখোঁজ পরিবারগুলির সঙ্গে পুনরায় ভার্চুয়ালি বৈঠক করে পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি:
যে ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে এই পর্যটকেরা গিয়েছিলেন, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের প্রতিনিধিরাও। তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি যাওয়ার পর থেকেই সংস্থার দুই কর্মীসহ ৩২ জনের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও জরুরি পরিষেবা পরিচালনায় যে সমস্যা হচ্ছে, তা-ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন স্বজনেরা।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ দেশে নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং নেপাল সরকার চীনের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীন সীমান্তে কয়েকজন পর্যটকের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে—যেখানে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়সহ (প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্রবধূ) অন্যান্যরা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে এই খবরের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।