‘এক মুঠো চাল দাও বাবু!’ ভুতনিতে বন্যার বাড়াবাড়ি, ত্রাণের জন্য হাহাকার

মালদার বন্যাকবলিত ভুতনির পরিস্থিতি দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে। উত্তর চণ্ডীপুরের বিনতলা ঘাটে ত্রাণের নৌকো পৌঁছতেই বানভাসি মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। কোলে শিশু কিংবা বৃদ্ধা মাকে নিয়ে শত শত মানুষ টিনের শিট দিয়ে বানানো অস্থায়ী ডিঙি চেপে ছুটে আসেন ঘাটে। দু’-তিন দিন ধরে না খেয়ে থাকা মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
জরুরি ত্রাণ বন্টন বুধবার বিনতলা ঘাটে গিয়ে চাল, ডাল, আলু, চিঁড়ে, গুড়, বিস্কুট, মশারি ও জামাকাপড় তুলে দেন মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল এবং ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি। ত্রাণ নিতে আসা হিরানন্দপুরের বিজয় মণ্ডল কিংবা কালুটোনটোলার বীরবল মণ্ডলদের ক্ষোভ ও কান্না ধরা পড়ে গলায়। বিজয়ের কথায়, “দু’দিন ঘরে কোনো রান্না হয়নি, শুধু গুড় আর মুড়ি খেয়ে বেঁচে আছি।”
ত্রাণ নিয়ে রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এ দিন ভুতনির জলমগ্ন এলাকা ঘুরে দেখে বানভাসিদের সাথে কথা বলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না বলে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে সিপিএমের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মানিকচকের বিজেপি বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। তাঁর দাবি, প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে এবং যাতায়াতের জন্য অনেক পরিবারকে বিনামূল্যে ডিঙি নৌকাও দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় নির্দিষ্ট শিবিরের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ চলছে বলে তিনি জানান।