‘১৫ বছর বিরোধীদের সুযোগ দিয়েছেন?’ বিচারপতির সওয়ালের পরই ছাড়পত্র মমতার জনসভায়

একগুচ্ছ কড়া শর্ত মেনে অবশেষে শ্রীরামপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, আদালতের ছুটির দিনে বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সভার দিন শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন হুগলির জেলা বিচারক এবং শ্রীরামপুর থানার আইসি।
আদালতের মূল নির্দেশাবলী:
- জমায়েতের সীমা: পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্য প্রশাসন ৭০০ জনের কথা বললেও, আদালত সর্বোচ্চ ১,০০০ জনের জমায়েতে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
- সময়সীমা: সভার জন্য বিকেল ৪টে থেকে ৬টা—এই দুই ঘণ্টার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে।
এজলাসে উত্তপ্ত বাক্যবাণ: শুনানি চলাকালীন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) বিল্বদল ভট্টাচার্যের মধ্যে চরম তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের স্তরে পৌঁছায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন, বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারির পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর সভা ভেস্তে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
স্থান নির্বাচন ও বিচারপতির তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য: এর আগে মূল মালিকের আপত্তিতে জগন্নাথদেব স্নানঘাট ময়দানে সভার আর্জি খারিজ করে আদালত। প্রশাসনের দেওয়া বিকল্প স্থান (জলকল ময়দান বা দিল্লি রোড) অগ্রহণযোগ্য বলে জানান কল্যাণ।
শুনানিতে রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে প্রশ্ন তোলেন, “গত ১৫ বছর ধরে বিরোধীদের দাবি মেনে তৃণমূল কি সভা-সমাবেশের অনুমতি দিত?” সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে অবশেষে একাধিক শর্তসাপেক্ষে কোর্ট ময়দানেই জনসভার রূপরেখা স্পষ্ট করে দেয় হাইকোর্ট।