ত্রাণের পাহাড় সত্ত্বেও অনাহার! ভুতনিতে বানভাসিদের হাহাকার

গঙ্গা, কোশী ও ফুলহরা নদীর জলে প্লাবিত মালদার মানিকচকের ভুতনি। জলমগ্ন দ্বীপাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ পাঠানো সত্ত্বেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল— শ’য়ে শ’য়ে মানুষ দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে বা অভুক্ত থেকে ত্রাণের নৌকার দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন।
বিনতলা নৌকা ঘাটে শুকনো খাবার ও ত্রাণের জন্য বানভাসিদের হুড়োহুড়ি প্রতিদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ত্রাণ যা আসছে তা অপর্যাপ্ত এবং ঠিকমতো সব জায়গায় পৌঁছচ্ছে না।
প্রশাসনের পরিসংখ্যান ও বড় পদক্ষেপ
- ত্রাণ শিবির ও আশ্রয়: ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় এবার শিবিরের সংখ্যা ৯ থেকে বাড়িয়ে ১১ করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪,৫০০ মানুষ।
- ত্রিপল বিলি: গত ২ বছরে ১৬,৫০০টির মতো ত্রিপল দেওয়া হলেও এবার সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০,০০০-এর উপরে।
- খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী: প্রায় ৩৫,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, চাল-ডাল, বাচ্চাদের খাদ্য, দুধ ও মোমবাতি বিলি করা হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বেশি।
- বিশুদ্ধ পানীয় জল: ২৩০ বার ওয়াটার ট্যাঙ্কার পাঠানো ছাড়াও ৯৬,৫০০টি জলের পাউচ এবং ২,৪০০টি ২০ লিটারের জলের জার সরবরাহ করা হয়েছে।
- স্বাস্থ্যবিধি: দুর্গতদের জন্য ২৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।
মানিকচকের বিডিও সৌরভকুমার মণ্ডল জানান, গ্রাম ও পাড়াভিত্তিক শুকনো খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি লঙ্গরখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে তিন বেলা গরম খাবার দেওয়া হচ্ছে। মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর আশ্বাস দিয়েছেন, চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সমস্ত ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন জলবন্দি প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে।
তবে সরকারি উদ্যোগ বাড়লেও বানভাসিদের বাস্তব যন্ত্রণার ছবি বলছে— চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ফারাক এখনও স্পষ্ট।