সন্তানের জন্মগত হার্টের সমস্যা? চিকিৎসকের এই পরামর্শেই কাটবে বড় বিপদ!

সন্তানের জন্মগত হার্টের সমস্যা? চিকিৎসকের এই পরামর্শেই কাটবে বড় বিপদ!

শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলায় তার হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যক্ষমতা। সাধারণত এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, সন্তান যদি জন্মগত হৃদরোগ (Congenital Heart Failure), ভালভের সমস্যা কিংবা হৃদস্পন্দনের অনিয়মে ভুগে থাকে, তবে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। ফর্টিস হাসপাতালের পিডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডাঃ সোমৃতা লাহা জানান, শৈশবে হার্টের সমস্যা সামান্য মনে হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের চাহিদা বদলায়। ফলে সমস্যা নতুন রূপ নিতে পারে, তাই সচেতন থাকাই মূল চাবিকাঠি।

কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন? বাচ্চারা সব সময় নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না। তাই বাবা-মাকে সতর্ক হতে হবে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখলে:

  • খেলাধুলা বা সাধারণ পরিশ্রমে দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি।
  • বুক ধড়ফড় করা, বুকে অস্বস্তি বা ঘনঘন নিশ্বাস নেওয়া।
  • ঠোঁট, জিভ বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া।
  • হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে পড়া।
  • বয়স অনুযায়ী বাচ্চার ওজন সঠিকভাবে না বাড়া।

সুস্থ হার্টের জন্য জরুরি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা ছোটবেলা থেকেই সহজ কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে হার্ট ভালো রাখা সম্ভব:

  • পুষ্টিকর খাবার: খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন তাজা ফল, শাকসবজি, ডাল ও গোটা শস্য রাখুন।
  • এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত নুন, মিষ্টি পানীয়, প্রসেসড ফুড এবং জাঙ্ক ফুড।
  • শারীরিক সক্রিয়তা: বয়স অনুযায়ী সাঁতার, সাইক্লিং বা আউটডোর খেলাধুলায় সন্তানকে উৎসাহিত করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম ও নিরাপত্তা: শিশুকে সবসময় সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোকিং (পরোক্ষ ধূমপান) থেকে দূরে রাখুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর করণীয় অনেকে বাচ্চার হার্টের অস্ত্রোপচার বা মূল চিকিৎসা শেষ হয়ে গেলে ডাক্তার দেখানো বন্ধ করে দেন—ডাঃ লাহার মতে, এই ভুলটি একেবারেই করা উচিত নয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম, ডায়েট ও ওষুধের বিধিনিষেধ পরিবর্তিত হয়। শিশুকে ভয় বা অতিরিক্ত কড়া নিয়মে না রেখে, ডাক্তার-অভিভাবক-সন্তান এই তিনের সুস্থ যোগাযোগের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই আসল উদ্দেশ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *