‘জমি এখন শ্মশান, চাষ আসাম্ভব!’ সিঙ্গুরে পুজো প্যান্ডেল থেকেই শিল্পের সোচ্চার দাবি ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক কৃষকদের

‘জমি এখন শ্মশান, চাষ আসাম্ভব!’ সিঙ্গুরে পুজো প্যান্ডেল থেকেই শিল্পের সোচ্চার দাবি ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক কৃষকদের

সিঙ্গুরে টাটাদের স্মৃতিবিজড়িত সেই কারখানার জমি আজ ইট, পাথর আর লোহার ছড়াছড়ি এক ভগ্নস্তূপ। তবে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সেই জমিতেই দেখা গেল এক ভিন্ন ছবি। তৃণমূল জমানায় তৈরি শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদ’-এর উদ্যোগে আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হলো বিশ্বকর্মা পুজোর। সকাল থেকেই ঢাকের আওয়াজ আর কচিকাঁচাদের ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে মুখরিত এলাকা। কিন্তু এই উৎসবের আবহেই প্রায় ২০ বছর পর ফের একবার একই সুরে সোচ্চার হলেন স্থানীয়রা—“সিঙ্গুরে আর চাষ নয়, শিল্প চাই।”

বিকেলে এই পুজো প্যান্ডেল পরিদর্শনে আসছেন রাজ্য শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তাঁর আসার খবর পেয়েই নতুন করে কারখানা গড়ার দাবি জোরালো করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি পুজো দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে স্থানীয় বিধায়ক অরূপ কুমার দাসেরও।

কৃষকদের ক্ষোভ ও বাস্তবতা

  • চাষের অনুপযুক্ত জমি: সাড়ে চার বিঘা জমির মালিক কৃষক স্নেহাশিস পাল জানান, কারখানার ৯০ শতাংশ কাজ হওয়ার পর আজ পুরো এলাকা শ্মশানে পরিণত হয়েছে। কংক্রিট ও ইটের স্তূপে নতুন করে চাষের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
  • একজোট ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক পক্ষ: স্থানীয় কৃষক শক্তিপদ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “আজ ইচ্ছুক বা অনিচ্ছুক বলে আলাদা কিছু নেই। সবাই হাহাকার করছে। তরুণেরা চাকরি চায়, এলাকা বাঁচুক।”

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মুখে সিঙ্গুর সিঙ্গুরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক অরূপ কুমার দাসও। তিনি জানান, কৃষিজমিটি এখন ইট-পাথরে ভরপুর, ফলে তা চাষের অযোগ্য। সিঙ্গুরবাসীর দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ দূর করতে সরকার আগামী দিনে শিল্পায়নের পথে হাঁটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির বিজেপির পক্ষ থেকেও আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুরে শিল্প পার্ক বা অন্য কোনো বড় কারখানা ফিরিয়ে আনা হবে।

বিশ্বকর্মা আরাধনার দিনটিতে তাই কারখানার ভগ্নস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে সিঙ্গুরবাসী একটাই স্বপ্ন দেখছেন—উৎসবের মরসুমে ফিরুক শিল্পের আলো, তৈরি হোক নতুন কর্মসংস্থান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *