২২ ফুটের বেশি উঁচু হোর্ডিংয়েই অ্যাকশন! দুর্গাপুজোয় কেএমসি-র কড়া নির্দেশিকা

২২ ফুটের বেশি উঁচু হোর্ডিংয়েই অ্যাকশন! দুর্গাপুজোয় কেএমসি-র কড়া নির্দেশিকা

কলকাতা: দুর্গাপুজোর দিনগুলোয় তিলোত্তমার রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় নানা রঙিন হোর্ডিং, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী তোরণে। তবে এবার আর ইচ্ছামতো যেখানে-সেখানে ব্যানার বা হোর্ডিং বসিয়ে পার পাওয়া যাবে না। উৎসবের মরসুমে শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। পুরসভার স্পষ্ট বার্তা—অনুমতি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) ছাড়া শহরের রাস্তায় বিজ্ঞাপনের একটি ফ্লেক্সও টাঙানো যাবে না।

NOC আবেদনের সময়সীমা ও জরুরি নিয়মাবলী:

  • আবেদনের তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে NOC-র আবেদন জমা দিতে হবে।
  • সময়সূচি: পুরসভার নির্দিষ্ট দফতরে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আবেদন জমা নেওয়া হবে।
  • বিস্তারিত তথ্য: শুধু ক্লাবের নাম নয়; বরো/ওয়ার্ডের নাম, বিজ্ঞাপনের সংখ্যা, আকার এবং রাস্তার নাম বিস্তারিত জানাতে হবে।
  • বিজ্ঞাপন টাঙানো ও সরানোর দিন: ৩ অক্টোবরের আগে রাস্তায় কোনও অস্থায়ী বিজ্ঞাপন লাগানো যাবে না। পুজো মিটলে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বিজ্ঞাপনী কাঠামো ক্লাবকেই সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • আইডি নম্বর: অনুমতি মিললে পুরসভার দেওয়া NOC বা আইডি নম্বরটি প্রতিটি বিজ্ঞাপনের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লিখে রাখা বাধ্যতামূলক।

উচ্চতা ও স্থান নির্বাচনে কড়া নির্দেশ:

  • উচ্চতার সীমা: মাটি থেকে বিজ্ঞাপনী কাঠামোর উচ্চতা সর্বোচ্চ ২২ ফুট হতে পারবে। এর চেয়ে বেশি উঁচু করা যাবে না।
  • নিষিদ্ধ এলাকা: রাস্তার মাঝের ডিভাইডার বা মিডিয়ান ভার্জে কোনও ধরনের অস্থায়ী হোর্ডিং বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • দৃশ্যমানতায় বাধা বারণ: রাস্তার নামফলক, ট্র্যাফিক সাইনেজ, স্ট্রিট লাইট, বাসস্ট্যান্ডের দৃশ্যমানতা কিংবা দোকানে যাতায়াতের পথ ঢেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না।

আইন ভাঙলেই কড়া শাস্তি: প্রতিটি ব্যানার বা ফ্লেক্সে পুজো কমিটির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং NOC নম্বর লেখা বাধ্যতামূলক, যাতে সহজেই আসল-নকল চেনা যায়। নির্ধারিত NOC ছাড়া বা নিয়ম ভেঙে বিজ্ঞাপন বসালে সেটিকে বেআইনি গণ্য করে বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি সেই ব্যানার সরানোর খরচ এবং নিয়মভঙ্গকারী কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *