১ লাখ চাকরি ও 3nm চিপের স্বপ্ন! ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব নিয়ে বড় আপডেট দিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

১ লাখ চাকরি ও 3nm চিপের স্বপ্ন! ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লব নিয়ে বড় আপডেট দিলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দু-একটি কারখানা তৈরি করা নয়, বরং চিপ তৈরির পূর্ণাঙ্গ একটি ‘ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ১ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হতে চলেছে।

বিশাল পরিকাঠামো ও ১ লক্ষ চাকরির সুযোগ ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, কেন্দ্র ভারতে অন্তত:

  • ৫টি বড় সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থা
  • ৩টি বড় মেটেরিয়াল কো ম্পা নি
  • উন্নত প্রযুক্তির প্যাকেজিং কারখানা

তৈরি করার দিকে জোর দিচ্ছে। চিপ প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, ডিজাইন এবং দক্ষ কর্মী তৈরির সমস্ত পরিকাঠামো একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা চলছে।

৪০nm থেকে 7nm এবং 3nm চিপের লক্ষ্য বর্তমানে ভারতে ৪০nm (ন্যানোমিটার) প্রযুক্তি পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বড়। মন্ত্রী জানান, আগামী ৮ বছরের মধ্যে 7nm এবং 3nm-এর মতো অত্যানাধুনিক প্রযুক্তির চিপ ভারতে তৈরির টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হলেও গত চার বছরে ভারতের অগ্রগতিতে কেন্দ্র অত্যন্ত আশাবাদী।

৮৫,০০০ ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ ও স্টার্টআপের জোয়ার শুধু কারখানা নয়, দরকার দক্ষ মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ভারতে ৮৫,০০০ সেমিকন্ডাক্টর ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাঠ্যক্রমে চিপ ডিজাইনিং ও প্র্যাক্টিক্যাল ট্রেনিং অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়া, এই খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, চিপ ও ডিপ-টেক খাতে ইতিমধ্যেই ২০৫টি স্টার্টআপ এবং ৩০টি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (VC) সংস্থা বিপুল বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘমেয়াদি দর্শন। অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন—কোনো কিছুকেই সহজে বা গ্রান্টেড হিসেবে নেওয়া যাবে না।” সেই অনুযায়ী ২০ বছরের রোডম্যাপ তৈরি করে রাসায়নিক, গ্যাস ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে এই পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

গাড়ি, মোবাইল, টিভি থেকে শুরু করে বিমান ও ট্রেনের চালিকাশক্তি এই সেমিকন্ডাক্টর। ভারতের এই নতুন ‘চিপ বিপ্লব’ শুধু ভারতের ইলেকট্রনিক্স নির্ভরতা কমাবে না, বরং বিশ্ববাজারে ভারতকে একটি অন্যতম প্রধান চিপ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *