ভারতের পণ্যে ১০০% কর? ট্রাম্পের সই করা নয়া আইনে তোলপাড়!

ভারতের পণ্যে ১০০% কর? ট্রাম্পের সই করা নয়া আইনে তোলপাড়!

রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির ওপর ১০০% শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা হাতে পেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সই করা নয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে কপালে চিন্তার ভাঁজ ভারত ও চিনের।

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর আমেরিকা। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত অ্যান্টি-রাশিয়া বিলে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছেন। এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা শীর্ষ দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের অভূতপূর্ব ক্ষমতা পেল মার্কিন প্রশাসন।

মূল নিশানায় কি ভারত ও চিন? আইনের খসড়ায় সরাসরি কোনও দেশের নাম উল্লেখ করা না হলেও, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে ট্রাম্পের মূল নিশানা ভারত ও চিন। ইউক্রেন যুদ্ধের পরও এই দুই দেশই মস্কোর থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে চলেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

  • বিল পাস হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারী শীর্ষ ৫টি দেশের পণ্যে ১০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
  • নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যারা রাশিয়াকে সাহায্য করবে, তাদের বিরুদ্ধেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্পের হাতেই ছাড়ের চাবিকাঠি বিলটিতে ট্রাম্পকে বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ‘জাতীয় নিরাপত্তা’-র কারণ দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে যে কোনও দেশকে এই শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দিতে পারেন। ফলে ভারতের ওপর শেষ পর্যন্ত ১০০% শুল্ক চাপবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

আমেরিকার ভেতরেই তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতির ওপর হুট করে এত বেশি শুল্ক বসালে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটবে। এতে খোদ আমেরিকাতেই জ্বালানির দাম ও মূল্যবৃদ্ধি ব্যাপক হারে বাড়তে পারে, যা ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ভারতের প্রতিক্রিয়া ও আইনি জট মার্কিন কংগ্রেস থেকে সরাসরি পাস হওয়ায় এই আইনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানো ভারতের পক্ষে সহজ হবে না (পূর্বে ট্রাম্পের একক নির্বাহী আদেশ সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছিল)। ভারতের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, চিন এই আইনকে আমেরিকার গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম বলে কটাক্ষ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *