মাত্র ১ টাকায় ফসল বিমা! বন্যাদুর্গত কৃষকদের জন্য রাজ্যের মাস্টারস্ট্রোক

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY)-র দ্রুত বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
১ টাকায় মিলবে বিমার সুরক্ষাবলয়
কৃষকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমাতে প্রিমিয়ামের সিংহভাগ খরচ নিজেরাই বহন করছে রাজ্য সরকার:
- ১ হেক্টর (২.৫০ একর) পর্যন্ত জমি: চাষিদের বিমা প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হবে মাত্র ১ টাকার প্রতীকী অর্থ।
- ১ থেকে ২ হেক্টর জমি: কৃষকদের দিতে হবে একর প্রতি নামমাত্র ১০০ টাকা।
- অবশিষ্ট অর্থ: প্রিমিয়ামের বাকি সম্পূর্ণ খরচ জোগাবে রাজ্য সরকার।
আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৩২ লক্ষ কৃষককে এই বিমার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা ফসল বিমা রূপায়ণে পশ্চিমবঙ্গকে গোটা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
নথিভুক্তিতে শীর্ষ জেলাগুলি
বন্যাপীড়িত জেলাগুলিতে কৃষকদের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো:
- পূর্ব মেদিনীপুর: ৭.২৩ লক্ষ কৃষক
- পশ্চিম মেদিনীপুর: ৪.৭৩ লক্ষ কৃষক
- হুগলি: ১.৬৮ লক্ষ কৃষক
- ঝাড়গ্রাম: ৪২ হাজার কৃষক
দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও আবেদনের মেয়াদ বৃদ্ধি
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাতে দ্রুত অর্থ পৌঁছে যায়, সে জন্য বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’ বা মধ্যবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি ব্যাঙ্কঋণগ্রহীতা কৃষকদের নথিভুক্তির শেষ তারিখ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে। অতীতে থমকে থাকা এই জনকল্যাণমুখী বিমা প্রকল্প বর্তমানে রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয়তায় ফের নতুন গতি ফিরে পেয়েছে।