‘খাম’ প্রতীক ঘিরে নতুন বিতর্ক! নির্বাচন কমিশনের পর এবার হাইকোর্টে নওশাদ

‘খাম’ প্রতীক ঘিরে নতুন বিতর্ক! নির্বাচন কমিশনের পর এবার হাইকোর্টে নওশাদ

নন্দীগ্রামে বিতর্কিত ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে এবার হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

কী নিয়ে বিতর্ক?

নন্দীগ্রামে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি দলকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন নওশাদ সিদ্দিকী। শনিবার ফুরফুরা শরিফে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি নতুন দল কীভাবে রাতারাতি ‘রেকগনাইজড পার্টি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এই প্রতীক পেয়ে গেল? নির্বাচন কমিশনের প্রতীক বরাদ্দ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ইতিমধ্যেই কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এবং আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করার তোড়জোড় শুরু করেছেন।

গণতন্ত্র ও সরকারের সমালোচনা

নওশাদের মতে, নির্বাচনে যত বেশি দল ও প্রার্থী অংশ নেবে, মানুষের সামনে বিকল্প তত বাড়বে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। নির্বাচনকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টাকে তিনি “উচিত নয়” বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদল ও সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, বাজেট পেশ হওয়ার পরও ঘোষিত কাজের ৩০ শতাংশ কাজও করতে পারেনি বর্তমান সরকার।

আইএসএফের অন্দরেও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ

আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আইএসএফের দলীয় অন্দরেও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শোকজ করা হয়েছিল দলের রাজ্য কার্যকরী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মণ্ডলকে। ফুরফুরার বৈঠকে আব্বাস সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ১৫ দিন সামসুর আলি মল্লিক কোনো সাংগঠনিক কাজ বা দলীয় বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না।

সব মিলিয়ে, নন্দীগ্রামের ‘খাম’ প্রতীক বিতর্ককে নওশাদ সিদ্দিকী কেবল একটি স্থানীয় ইস্যু হিসেবে দেখছেন না, বরং একে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে আনতে চাইছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *