শালবনি কেলেঙ্কারি: ‘অভিষেকের নির্দেশে পার্টি ফান্ডে ৭ কোটি’, সিআইডি জেরায় বিস্ফোরক আপ্ত সহায়ক সুমিত!

শালবনি কেলেঙ্কারি: ‘অভিষেকের নির্দেশে পার্টি ফান্ডে ৭ কোটি’, সিআইডি জেরায় বিস্ফোরক আপ্ত সহায়ক সুমিত!

মেদিনীপুর: শালবনি জমি কেলেঙ্কারি মামলায় সিআইডি (CID) তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়! রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা পড়েছিল খোদ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা নথিতে সিআইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, জেরার মুখে এই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ধৃত সুমিত রায়।

📌 এক নজরে মূল আপডেট:

  • বিস্ফোরক বয়ান: অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিতের দাবি, ‘টি ঘোষ’ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে দলীয় ফান্ডে জমা করেছিলেন তিনি।
  • বিপুল অঙ্কের লেনদেন: ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ৭ কোটি টাকা।
  • অভিষেকের নাম: সিআইডির ইঙ্গিত, টাকা জমার উৎস স্পষ্ট না হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে তৃণমূল সাংসদকেও।
  • আদালতের নির্দেশ: সুমিত-সহ ধৃতদের ৫ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল মেদিনীপুর আদালত।

টাকা এল কোথা থেকে? সুমিতের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য সরকারি জমির ভুয়ো নথি তৈরি করে তা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে শালবনিতে। সিআইডির দাবি, জমি জালিয়াতির কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। হরিশ মুখার্জি রোড শাখার ওই অ্যাকাউন্টে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দফায় দফায় প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করেন অভিষেক-সহায়ক সুমিত রায়।

গোয়েন্দারা এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই সুমিত জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা পাননি। দলের নির্দেশে তিনি মেদিনীপুরে গিয়েছিলেন। আর অভিষেকের নির্দেশেই ‘টি ঘোষ’ নামক এক ব্যক্তি তাঁকে টাকা দেন, যা তিনি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করেন।

ক্যামেক স্ট্রিট যোগ ও সিআইডির পদক্ষেপ মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে চার্জশিটে সিআইডি জানিয়েছে, অভিষেকের দুই দেহরক্ষী এবং সুজয়ের গাড়িচালকরা টাকার লেনদেন সরাসরি দেখেছেন। সুজয় নাকি কলকাতার ক্যামেক স্ট্রিট বা কালীঘাটে অভিষেকের অফিসে এসে সুমিতকে টাকা দিয়ে যেতেন।

গোয়েন্দাদের মতে, সুমিত নিজের দায়িত্বে এত বিপুল টাকা পার্টি ফান্ডে জমা করতে পারেন না। তাই সুমিতের উল্লেখ করা ‘টি ঘোষ’-এর বয়ান নথিবদ্ধ করতে চলেছে সিআইডি। টাকার আসল উৎস জানা না গেলে, আগামী দিনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ভাবছেন গোয়েন্দারা।

২৪ সেপ্টেম্বর ফের আদালতে পেশ শনিবার মেদিনীপুর আদালতে সুমিত ছাড়াও লক্ষ্মী ভুঁইয়া, নিত্য রায় এবং অমিত ঘোষকে পেশ করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে ৫টি মোবাইল ফোন ও একাধিক নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সরকারি আইনজীবী ৭ দিনের হেফাজত চাইলেও বিচারক ৫ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ধৃতদের আবার আদালতে হাজির করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *