‘তেলের টাকাতেই চলছে যুদ্ধ!’ রাশিয়ার শোধনাগার উড়িয়ে হুঙ্কার জেলেনস্কির, ধোঁয়ায় ঢাকল মস্কো

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া রাশিয়ার স্টেট ডুমার (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) নির্বাচনের শেষ দিনে নজিরবিহীন ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাল ইউক্রেন। রবিবার ভোরে রাশিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে প্রায় ১৬০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন। এর মধ্যে ৪৫০টি ড্রোন সরাসরি আছড়ে পড়ে রাজধানী মস্কোর তেল শোধনাগার, একাধিক আবাসিক ভবন, হাসপাতাল এবং পার্কে।
ভয়াবহ এই হামলায় মস্কো অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোয় আগুন ধরে যায়। বরফাবৃত এলাকায় বিশাল জ্বালানি ট্যাঙ্কার পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে এবং গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। হামলায় এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ জন।
‘তেলের টাকায় যুদ্ধ বন্ধের পথ’— দাবি জেলেনস্কির
এই হামলার দায় স্বীকার করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া তেল বিক্রির অর্থ দিয়েই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই পুতিন সরকারের আর্থিক শক্তি ভেঙে দিতেই তেল শোধনাগারগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাসূত্রে জানা গিয়েছে, ড্রোন ছাড়াও এই অভিযানে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ এবং ‘পেলিকান’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা, দাবি মস্কোর
রাশিয়ার ওপর এই ধরনের ব্যাপক আক্রমণকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তিনি দাবি করেন, “ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার লক্ষ্যেই ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। তবে এতে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়েনি, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই চলেছে।” অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতে ১,১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্টেট ডুমায় এটিই প্রথম নির্বাচন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে। তবে বিরোধী প্রণেতাদের একটি বড় অংশকে লড়তে না দেওয়ায় ইউক্রেন এবং পাশ্চাত্য শক্তিগুলি এই ভোটকে ইতিমধ্যেই ‘ভুয়ো নির্বাচন’ বলে কটাক্ষ করেছে।