বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প! ২০১৪ কোটি টাকা অনুমোদন দিল রাজ্য

বক্রেশ্বরে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প! ২০১৪ কোটি টাকা অনুমোদন দিল রাজ্য

পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বীরভূমের বক্রেশ্বরে এবার শুরু হতে চলেছে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এক সুবিশাল ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ। এই মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন (WBERC) ইতিমধ্যেই ২০১৪ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে।

কড়া শর্তে মিলল ২০১৪ কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (WBPDCL)-কে এই প্রকল্পের জন্য টাকা বরাদ্দ করেছে WBERC। তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অনুমোদিত ২০১৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত কোনো খরচ হলে WBPDCL-কে তার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে অতিরিক্ত অর্থ মঞ্জুর করা হবে না। অন্যদিকে, এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB) ১৯৫.১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের প্রস্তাব দিয়েছে।

জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা ছাড়াই বিদ্যুৎ সাধারণত যেকোনো বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রচুর পরিমাণ জমির প্রয়োজন হয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো জনবহুল রাজ্যে কৃষিজমি বা জনবসতি বাঁচিয়ে সৌরপ্রকল্পের জন্য জমি পাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু বক্রেশ্বরের এই ভাসমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা তৈরিই হচ্ছে না। বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিজস্ব জলাধারের জলের ওপরই ফোটোভোল্টাইক সোলার প্যানেলগুলি বসানো হবে। ফলে কৃষি বা সাধারণ মানুষের জমিতে কোনো প্রভাব না ফেলে বিদ্যমান পরিকাঠামো ব্যবহার করেই ২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে এই মডেল রাজ্য তথা দেশের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *