এসএসসি-তে বিরাট রদবদল: নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ৫ আঞ্চলিক কমিশনের দায়িত্বে WBCS অফিসাররা

আসন্ন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে বিতর্ক মুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন ও স্কুল শিক্ষা দফতর। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করে রাজ্যের পাঁচটি আঞ্চলিক কমিশনের ‘চেয়ারম্যান-ইন-চার্জ’ হিসেবে পাঁচজন অভিজ্ঞ ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
অস্থায়ী ব্যবস্থার অবসান, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে নবান্ন অতীতে আঞ্চলিক কমিশনগুলির শীর্ষপদে সাধারণত শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক বা শাসকদল ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসানো হতো। কিন্তু গত জুন মাসে পাঁচ আঞ্চলিক কমিশনের চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করায় প্রশাসনিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে এতদিন জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI) অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। তবে সেই অস্থায়ী বন্দোবস্ত তুলে দিয়ে এবার পুরো ব্যবস্থার প্রশাসনিক রাশ সরাসরি সরকারি আমলাদের হাতেই সঁপে দিল নবান্ন।
কোন অঞ্চলের দায়িত্বে কে?
- কলকাতা: কাসবেরী ঘোষ
- বারাসাত: শ্রাবন্তী দাস
- বর্ধমান: পূর্ণিমা দে
- বাঁকুড়া: মিঠু সরকার
- মালদা: প্রলয় রায়চৌধুরী
আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত নিয়োগের লক্ষ্য চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই এসএসসি-র এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট করা হচ্ছিল। এর আগে কমিশনের সচিব পদেও ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছিল। শিক্ষক নিয়োগ কেন্দ্রিক বিগত দিনের একাধিক আইনি জটিলতা ও বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমলা নির্ভর প্রশাসনিক মডেলেই ভরসা রাখছে রাজ্য। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে শীর্ষ স্তরের এই রদবদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।